শীতকালীন টম্যাটোর চাষ গ্রীষ্মকালে!

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৪

পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কৃষক প্রশিক্ষণ

কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা

কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র রাইখালীতে গ্রীষ্মকালীন টম্যাটো চাষবিষয়ক দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ গত সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের একশ নারী-পুরুষ কৃষক-কৃষাণি গ্রীষ্মকালীন টম্যাটো চাষ প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করেন পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র রাইখালীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলতাফ হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম এবং সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জায়েদ হোসেন।

গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলতাফ হোসেন বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত শীতকালে টম্যাটো উত্পন্ন হয়। কিন্তু কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন গবেষণা করে টম্যাটোর কিছু জাত উদ্ভাবন করেছেন যেগুলো গ্রীষ্মকালেও উত্পাদন করা সম্ভব। উদ্ভাবিত টম্যাটোর সেই জাতগুলো হলো বারি টম্যাটো-৪, বারি হাইব্রিড টম্যাটো-৮ এবং বারি হাইব্রিড টম্যাটো-১১। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানের সমতল ভূমিতে এবং পাহাড়ের ঢালে কৃষক গ্রীষ্মকালে এসব টম্যাটো চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে এবং এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে পারে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক অল্প জমিতে এসব টম্যাটো চাষ করে সাফল্য পেতে পারেন।

ড. মো. আলতাফ হোসেন আরো বলেন, গ্রীষ্মকালে উত্পন্ন হলেও এসব টম্যাটোর স্বাদ শীতকালীন টম্যাটোর মতোই হবে। তবে গ্রীষ্মকালীন টম্যাটোর জাত ভিন্ন। এই টম্যাটো উত্পন্ন করার জন্য পলিথিনের স্বচ্ছ একটি আচ্ছাদন দিতে হবে। তবে এই টম্যাটো উত্পাদন খরচ একটু বেশি হলেও উত্পাদিত ফসলের উচ্চমূল্য পাওয়া যাবে। স্থানীয় বাজারে এই টম্যাটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি করে কৃষক খরচ পোষাতে পারবেন বলে তিনি জানান। আগ্রহী কৃষকরা গ্রীষ্মকালীন টম্যাটো উত্পাদন করতে আগ্রহী হলে তারা যদি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে যোগাযোগ করেন তাহলে গ্রীষ্মকালীন টম্যাটোর বীজ সরবরাহ করা হবে।