জামিউল আহসান সিপু
চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ফুটপাতের দোকানদার। চাঁদাবাজদের পক্ষ নিয়ে মামলার বাদীকে থানায় ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ওদের বিরুদ্ধে মামলা করে কোনো লাভ নেই, বরং মামলা তুলে নিয়ে ওদের কথামতো চাঁদা দিয়ে ফুটপাতে দোকানদারি করতে হবে। মামলার বাদী এ ব্যাপারে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তর আইজিপি’স কমপ্লেইন্টস মনিটরিং সেলে অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর কলাবাগান থানার পান্থপথের ফুটপাত এলাকায়। মামলার বাদী জামাল উদ্দীনের পান্থপথের ফুটপাতে পিঠার দোকান ছিল। সাপ্তাহিক ৫ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় চাঁদাবাজরা।
তবে জামাল উদ্দিনের মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে কলাবাগান থানার ওসি ইয়াছিন আরাফাত বলেন, যে স্থানটিতে জামালের পিঠার দোকান ছিল, সেটি অবৈধ। স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব হয়। তারা পিঠার দোকানে এলে জামাল উদ্দিন ভাপা পিঠা বানানোর পাতিল থেকে গরম পানি এক ছেলের গায়ে ঢেলে দেয়। এতে ছেলেটি গুরুতর আহত হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে ঐ ছেলেরা অভিযোগ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় একটি মামলা হয়। পরে জামাল উদ্দিন আদালতে গিয়ে স্থানীয় ছেলেদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। আমি দুই পক্ষকে থানায় ডেকে সমঝোতা করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কোনো পক্ষই মানেনি। এখন মামলা অনুযায়ী বিষয়টির সমাধান হবে। তাকে থানায় ডেকে এনে ভয়ভীতি দেখানোর প্রশ্নই ওঠে না।
জানা যায়, পান্থপথের ফুটপাতে জামাল উদ্দিনের ঐ পিঠার দোকানে তার দুই বোন পিঠা তৈরির কাজ করত। গত এপ্রিল মাসে স্থানীয় চাঁদাবাজ গ্রুপের সদস্য মিন্টু খান, সজীব, আলমগীরসহ ১০-১২ জন তার দোকানে এসে সাপ্তাহিক ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসীরা তাদের মারধর করে। এ ব্যাপারে জামাল কলাবাগান থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ তার জিডি নেয়নি। পরে ২৫ এপ্রিল জামাল চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে চাঁদাবাজরা তাকে হুমকি দিতে থাকে। গত ২৪ জুন রাতে তারা দোকানে হামলা চালায়। লাথি দিয়ে পিঠা তৈরির হাঁড়ি-পাতিল ফেলে দেয়। এসময় গরম পানিতে একজন ঝলসে যায়। ঐ সময় চাঁদাবাজরা জামালকে মারধর করে। তারা চলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর কলাবাগান থানার পুলিশের গাড়ি থেকে তিন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে চাঁদাবাজ গ্রুপের দুই সদস্য সেখানে নামে। পুলিশ দোকানের সব জিনিসপত্র গুঁড়িয়ে দেয়। ঐ সময় জামালের দুই বোন প্রতিবাদ করলে পুলিশ সদস্যরা তাদের মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করেন এবং বলতে থাকেন, ‘তোরা খারাপ মেয়ে। আমরা এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিব।’
ঘটনার পরদিন জামাল উদ্দিন কলাবাগান থানার ওসির সঙ্গে দেখা করলে তিনি বলেন, ‘মামলা প্রত্যাহার না করলে তুমি দোকানদারি করতে পারবা না।’ পরে জামাল দেখা করেন পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসির (উপকমিশনার) সঙ্গে। ডিসি দোকান বন্ধের কারণ জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘স্যার, ওটা সরকারি জায়গা, তাই বন্ধ করেছি। পরবর্তীতে চাঁদাবাজ গ্রুপের একজন বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় জামালের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করে।
এ ব্যাপারে জামাল উদ্দিন বলেন, ‘চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় আমি ফুটপাতে দোকানদারি করতে পারছি না। ওরা আমাকে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশও বলছে, চাঁদাবাজদের সঙ্গে সমঝোতা করেই ফুটপাতে দোকানদারি করতে হবে।’
