সরকারি গাছ কেটে তৈরি হচ্ছে নৌকা

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৫৭

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কেটে বাইচের নৌকা বানানোর অভিযোগ উঠেছে। যদিও উপজেলার মধ্যে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজন করার মতো বড়ো কোনো জলাশয় নেই। প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ১০৮ ফুট দৈর্ঘ্যের এই নৌকা।

জানা গেছে, উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক থেকে অন্তত ১২টি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে এক মাসের ব্যবধানে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফারুক এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজীউল হক এই গাছ কাটায় জড়িত। ইউনিয়নের বোহাইল এলাকার নেংটারবাড়ির পাশ থেকে একটি মেহগনি, দুটি ইউক্যালিপটাস, জালশুকা এলাকা থেকে তিনটি ইউক্যালিপটাস, খোট্টাপাড়া গ্রাম, ভ্রমরকুটি ও খলিসাকান্দি গ্রাম থেকে একটি করে শিশুগাছ কাটা হয়েছে। বাসিন্দারা জানান, এসব গাছ অন্তত ২০ বছরের পুরোনো। সর্বশেষ গত শুক্রবার ইউনিয়নের ডোপলাপাড়া গ্রামের সড়কের পাশ থেকে তিনটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটেছেন চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ফারুকের লোকজন।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তত্ত্বাবধানে নৌকা বানানো হচ্ছে ইউনিয়নের হরিতলা বাজারের নারিল্যা গ্রামের মাঠে। সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, নৌকার কাজ শেষ, এখন রং করা বাকি। সেখানেই কথা হয় জিয়াউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে এলাকায় নদী বা বিল ছিল। এখন তো নেই। এই নৌকা আসলে বাইচ খেলার নাম করে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতারা বানাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজীউল হক বলেন, ‘সড়কের গাছ কাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি কিছুই জানি না।’

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘সড়কে ভাঙাচোরা দু-একটা গাছ কাটা হয়েছে। গ্রামের লোকজন নৌকা বানাচ্ছেন। আমরা সেখানে কিছু টাকাপয়সা দিয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফুয়ারা খাতুন বলেন, ‘ঐ ইউনিয়নে বিভিন্ন সময়ে গাছ কাটার অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এখন অভিযোগ পাওয়া গেছে, চেয়ারম্যান নিজেই গাছ কাটছেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’