তেঁতুলিয়ায় এক বছরের শিশুসহ মাকে আটকের পর কারাগারে প্রেরণ

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১০

পঞ্চগড় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়ায় এক বছরের শিশুসহ মাকে পিস্তল দিয়ে ফাঁসিয়ে কারাগারে প্রেরণ করার অভিযোগ উঠেছে। নিরপরাধ এক ব্যক্তিকে আটকের পর ৫০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গত সোমবারের এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার পঞ্চগড় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর আব্দুল মান্নান ও তার সঙ্গীয় ফোর্সের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার ইন্সপেক্টর আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি দল তেঁতুলিয়ার প্রেমচরণজোত এলাকায় লিটনের বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় লিটন বাড়িতে ছিলেন না। ঘর তল্লাশির সময় লিটনের স্ত্রী ঝর্না বেগমের কোমরে একটি ওয়ান সুটার পিস্তল খুঁজে পান। পরে ঝর্না ও তার এক বছরের শিশুকে থানায় নিয়ে এসে অস্ত্র আইনে মামলা দেওয়া হয়। তবে লিটনের পরিবারের অভিযোগ, লিটনের ভাই নিরপরাধ খাজা নাজিম উদ্দিনকে তারা আটক করে গাড়িতে তুললে উদ্যত হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।            লিটনের বড় ভাই মানিক মিয়া পুলিশের ৯৯৯ ও দুদকের ১০৬ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে লিটনের স্ত্রী ঝর্না বেগমকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন তারা। ৯৯৯ নম্বর থেকে অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের কাছে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

এলাকাবাসী জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে লিটন ও তার মা দুজনই ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গত রবিবার রাতে তারা দুজনেই বাড়ি ফেরেন। সোমবার আকস্মিক এই অভিযান চালানো হয়। লিটন জানান, সোমবার আমি বাইরে ছিলাম। পিস্তল দিয়ে ফাঁসিয়ে শিশুসহ আমার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছেন তারা।

লিটনের ভাই খাজা নাজিমুদ্দিন জানান, তারা ডাকাতের মতো বাড়িতে ঢুকে নারী ও বৃদ্ধাদের চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা আমার হাতে হ্যান্ডকাফ পরান। এক লাখ টাকা দিলে আমাকে ছেড়ে দিতে পারে বলে তারা জানান। পরে আমার ভাবি ৪৫ হাজার টাকা এবং প্রতিবেশী মনিরুজ্জামান ওমর ৫ হাজার টাকা দিয়ে আমাকে ছাড়িয়ে নেন। আমি বিড়িও খাই না। লিটনের মা মঞ্জুমা বেওয়া বলেন,  মহিলা পুলিশটা আমার বৌমার গায়ে হাত তুলেছেন। হঠাত্ তারা বলে বসেন আমার বৌমার কাছে অস্ত্র আছে। অস্ত্র কোথা থেকে এলো কেউ বলতে পারেন না। এটা ওদেরই কারসাজি।

পঞ্চগড় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মান্নান বলেন, তারা যেসব অভিযোগ করছেন তা মিথ্যে। লিটন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। ভুলক্রমে তার বড় ভাই খাজা নাজিম উদ্দিনকে আটক করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেই। কিন্তু তল্লাশির সময় লিটনের স্ত্রী ঝর্নার কোমরে একটি ওয়ান সুটার গান পিস্তল খুঁজে পাই। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। গতকাল ঐ নারীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।