গাড়িতে আগুন, দোকানে লুটপাট ও পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে ব্যাপক সহিংসতা

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৬

ফ্রান্সে বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশজুড়ে বিক্ষোভে অনেক গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। দোকানপাট ও হোটেলে ভাঙচুরের সঙ্গে সঙ্গে লুটপাটও করা হয়েছে। অনেক পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। দেড় হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশটি অভ্যন্তরণী বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানিয়েছে। ফরাসি অর্থমন্ত্রী এই বিক্ষোভকে অর্থনীতির জন্য দুর্যোগ বলে অভিহিত করেছেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। শনিবার প্রথম দিকের বিক্ষোভে তেমন লোক সমাগম ঘটেনি। সহিংসতার খবরও তেমন একটা ছিল না। কিন্তু সময় যতো গড়িয়েছে বিক্ষোভের পরিমাণও বেড়েছে। দোকানপাট ও হোটেলে লুটপাট এবং গাড়িতে ব্যাপকহারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাস্তার পাশের বিভিন্ন ভবনের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে। শহরের ব্যাংক ও বীমাসহ অনেক অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে হতাহতের ঘটনা তেমন ঘটেনি। বিক্ষোভে ১ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ অংশ নেয়। গ্রেপ্তার করা হয় ১৭শ’ বিক্ষোভকারীকে। গত চার সপ্তাহে প্রায় আড়াই হাজার বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার কিংবা আটক হয়েছে। বড়দিনের আগে এত বড় বিক্ষোভ দেশটির অর্থনীতিতে ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। ইতোমধ্যে দেশটির অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লে মেরি বলেন, এই বিক্ষোভ আমাদের বাণিজ্য এবং অর্থনীতির জন্য দুর্যোগ বয়ে আনবে। পর্যটন কেন্দ্র আইফেল টাওয়ার ও ল্যুভর মিউজিয়ামসহ অনেকগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্যারিসের দুটি ফার্নিচার দোকানের মালিক জর্জ ক্রেরারি বলেন, আমার দোকান কেবল ভাঙচুরই করা হয়নি, কাঠের ফার্নিচারে গ্রাফিতি করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ ইয়েভস ল ড্রায়ান বলেন, আমি এবং আমার প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ আমাদের দেশীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইটার বার্তায় জানান, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির জন্যই এই বিক্ষোভ হচ্ছে। জ্বালানির কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে গত ১৭ নভেম্বর থেকে চলছে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। ফ্রান্সের ইতিহাসে গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সহিংস বিক্ষোভ। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত তিনজন প্রাণ হারিয়েছে। আন্দোলনের মুখে ফ্রান্স সরকার জ্বালানি কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি বাতিল করলেও অন্যান্য ইস্যুতে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বিক্ষোভকারীরা সরকারকে ন্যূনতম পেনশন, কর ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন, অবসরের বয়সসীমা কমানোসহ ৪০টিরও বেশি দাবি-দাওয়া দিয়েছে। তবে সরকারের মন্ত্রীরা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলন চরমপন্থীদের হাতে চলে গেছে। বিক্ষোভ থামাতে প্রায় এক লাখ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার করতে দেখা গেছে।