নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে কাঠের দোতলা নামে পরিচিত হাকিম মার্কেটের ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরেও প্রশাসন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্দেশ অমান্য করে দোকান পরিচালনা করে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। যে কোনো সময় ভবনগুলো ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ চলাকালীন নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে আব্দুর হাকিম কনট্রাক্টরের করা কাঠের দোতলায় আগুন দিয়েছিল পাক হানাদার বাহিনী। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়া পর এই কাঠের দোতলা ভেঙে ৩৫ শতাংশ জমিতে আটটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এ সময় পাইকারি রেডিমেড জামাকাপড় ক্রয়ের জমজমাট মার্কেট হিসেবে এটি পরিচিতি লাভ করে। ২০০৭ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়।
রবিবার সরেজমিন হাকিম মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, হাকিম মার্কেটের জরাজীর্ণ অবস্থা। ভবনগুলোর মিলিত অংশগুলো ভেঙে গেছে। সিঁড়িগুলো যেন ভয়ঙ্কর অবস্থা, কিছু স্থানে সিঁড়ি সংস্কার হয়েছে দোকানদারদের সহযোগিতায়। পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। শতাধিক দোকান রয়েছে পুরো হাকিম মার্কেটে। বাহিরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নোটিশ। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরও ভবনটি অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নোটিশ বোর্ড সাঁটিয়ে দিয়েছে। এখানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পাইকারি ব্যবসায়ীরা রেডিমেট জামাকাপড় ক্রয়ের জন্য আসেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার জানান, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ নোটিশ টানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু মালিকপক্ষ এই ভবনটি না ভাঙার কারণে আমরা ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছি। ভেঙে দিলে অন্যত্র ব্যবসা করব সমস্যা নেই। ঝুঁকিপূর্ণ হাকিম মার্কেট ভবন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহতেশামুল হক জানান, মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ—এ ব্যাপারে আমার নলেজ নেই, জেনে জানাব।
