বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় আমন মৌসুমে সরকারের চাল সংগ্রহ অভিযানে ১১ জন অটোচালকল মালিক স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দ পেয়েছেন। কোটি টাকার বিনিময়ে এই বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের একজন কর্মচারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তুলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিয়ে এ ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে ক্রয় কমিটির সভায় এসব অভিযোগ উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ক্রয় কমিটির সভাপতি এস এম জাকির হোসেন সভা স্থগিত করে সদস্যদের নিয়ে তাত্ক্ষণিক তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছেন।
উপজেলার কয়েকজন সাধারণ চালকল মালিক জানান, আমন মৌসুমে তাদের হ্যাসকিং মিলের নামে বরাদ্দের চেয়ে তারা কম বরাদ্দ পেয়েছেন। এবার বাজারে চালের দর গত কয়েক বছরের তুলনায় কম। সরকারি খাদ্য গুদামে যে জাতের চাল সরবরাহ করা হবে তার বাজারদর কেজিপ্রতি পৌনে ২৬ টাকা। আর সরকার নির্বাচনের কারণে চালের দাম কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা ধার্য করেছে। এতে কেজিপ্রতি ১০ টাকা লাভ হবে ব্যবসায়ীদের।
সূত্র জানায়, উপজেলায় ৪৯৫টি চালকল রয়েছে। ১৫টি অটোচালকলের মধ্যে ১১টি চালকলের মালিক হ্যাসকিং মিলের বরাদ্দ থেকে ১ হাজার ৯০০ মেট্রিকটন চাল অতিরিক্ত বরাদ্দ নিয়েছেন। এর জন্য টনপ্রতি ছয় হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে তাদের। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের এক নিরাপত্তা প্রহরী এভাবে প্রায় এক কোটি ১৪ লাখ টাকা তুলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বরাদ্দের বিভাজন তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি সাধারণ চালকল মালিকদের নজরে আসে। উল্লেখ্য, উপজেলায় এবার আমন মৌসুমে ৮ হাজার ১৫০ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের বরাদ্দ রয়েছে।
ইউএনও এস এম জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে সভা স্থগিত করে ক্রয় কমিটির সদস্যদের নিয়ে সরেজমিনে মেসার্স জেএন অটোমিলে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার সবচেয়ে বড় ও ভালো মানের অটোমিলের চেয়ে ছোট এ মিলে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ রকম ১১টি কমধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন অটো মিলে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলায় বন্ধ থাকা চালকলের নামেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পরিতোষ কুমার কুন্ড বলেন, অটো মিলের মালিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আর সময়ের অভাবে ইউএনও ক্রয় কমিটির সভা স্থগিত করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাইন উদ্দিন বলেন, অটো মিলের ধারণক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করে বরাদ্দ নির্ধারণ করে জেলা কমিটি। কোনো অটো মিলের বরাদ্দ বাড়াতে হলে জেলা কমিটির কাছে আবেদন করতে হবে। টাকা নিয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
