ই ম রু ল নূ র
গত শুক্রবার সারাদেশের ২৪টি হলে মুক্তি পেয়েছে অরুণ চৌধুরী পরিচালিত ছবি ‘মায়াবতী’। এ ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দুই পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। যৌথভাবে আনোয়ার আজাদ ফিল্মস ও অনন্য সৃষ্টি ভিশন প্রযোজিত এই ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ‘স্বপ্নজাল’ খ্যাত ইয়াশ রোহান।
মুক্তির দিন থেকেই ঢাকাসহ ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হলে পুরো টিমসহ দর্শক সারিতে বসে ছবিটি দেখেছেন তিশা। বলা যায়, এখন হল পরিদর্শন করা নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন এই অভিনেত্রী। দর্শক সারিতে বসে ছবি দেখার মজাই আলাদা বলে মনে করেন তিশা। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ ছবিটির জন্য ভালো সাড়া পাচ্ছি। যারা ছবিটি দেখেছেন সবাই প্রশংসা করছেন। দর্শকরা মায়ায় জড়াতে শুরু করেছেন বলা যায়। আমি চাই, এই মায়া আরো অনেক বাড়তে থাকুক।’
‘ছবির গল্পটা যখন শুনি, তখনই এটার প্রতি আমার একটা আগ্রহ তৈরি হয়। এটা আমাকে ভাবিয়েছে। এটা একটা নিটোল প্রেমের গল্প। একটা মিউজিক্যাল জার্নি রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ছবির গল্পটা আমাকে আকৃষ্ট করেছে। কোনো সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান কারণই থাকে গল্প। বিশেষ করে, আমি গল্প দেখেই একেকটা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হই। তা সিনেমা হোক কিংবা নাটক। ‘মায়াবতী’তে যুক্ত হওয়ারও প্রধান কারণ হলো গল্প। গল্পটা আমাকে ছুঁয়ে গেছে,’ বলেন তিশা।
ছবিটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিশা। চরিত্রটি নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘মায়াবতী এমনই একটি চরিত্র, যাকে দেখলে সাধারণ মেয়েদের খুব বড় হওয়ার ইচ্ছা জাগে। ছোট জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে যে মেয়েরা বড় হওয়ার ইচ্ছা লালন করে, তারা মায়াবতীর মধ্যে নিজেদের খুঁজে পাবে। আমি যখন কোনো একটা চরিত্র পাই করার জন্য, তখন নিজেকে সেই সিচুয়েশনে ফেলে দিয়ে কাজটা করাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করি। এই ছবির ক্ষেত্রেও আমি সেটাই করেছি।’
এ ছবিতে দেখা যায়, গ্রামের এক সহজ সরল মেয়ে মায়াবতী, যে গান করে। দালালের খপ্পরে পড়ে ঠাঁই হয় তার পতিতাপল্লীতে। সেখানে এক সংগীতগুরুর কাছে তালিম নিতে থাকে গানের। অন্যদিকে মায়াবতীর গানের প্রেমে জড়িয়ে যায় এক ব্যারিস্টার। তারপর একটা খুনের ঘটনা নিয়ে শুরু হয় নতুন গল্প।
ছবির গল্পে একটা মেসেজ রয়েছে, যেটা হলো ‘না, মানে না’; অর্থাত্ না বলার অধিকার সবারই আছে। সেই অধিকার এবং সেই ‘না’টাকে সবারই মূল্যায়ন করা উচিত। একটা মানুষ যেই প্রফেশনেই থাকুক না কেন, এই ‘না’ বলার অধিকার সবার আছে, তাই এটাকে সবাই সম্মান করুক, এটাই ‘মায়াবতী’র ফোকাস।
ছবির নায়ক ইয়াশের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিশা বলেন, ‘ইয়াশের সঙ্গে এর আগেও বায়োস্কোপের একটা কাজ করেছিলাম। সে খুব ভালো অভিনয় করে। আর এই ছবিটাতে কাজ করতে গিয়ে আমরা অনেক মজা করেছি। যেমন আমি বারবারই বলছি যে, বাদাম খেতে খেতে আমাদের এ ছবির কাজ শেষ হয়ে গেছে!’
