বিশিষ্ট লোকসংগীতশিল্পী ও গবেষক কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্যের ৪৯তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে আসাম রাজ্য সরকার ও ড্যান্সার সার্কেলের যৌথ আয়োজনে শিলচরে এই মহান শিল্পীর জন্মদিন পালিত হয়। শিলচরের বঙ্গভবন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্যের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে জন্মোত্সবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি লেখক-গবেষক গোলাম কুদ্দুছ, আসাম রাজ্য সরকারের মন্ত্রী পরিমল শুল্কবৈদ্য, শিলচরের বিধায়ক দিলীপ কুমার পালসহ বিশিষ্টজনেরা। গোলাম কুদ্দুছ তার বক্তব্যে কালিকা প্রসাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলা সংগীত, বিশেষ করে লোকসংগীতের প্রচার ও প্রসারে কালিকা প্রসাদের অসামান্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন যে, কালিকা প্রসাদের উদ্যোগ নবীন প্রজন্মের শিল্পীদের লোকসংগীতের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে নিঃসন্দেহে। তিনি দু দেশের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলায় সংস্কৃতি বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বহ্নিশিখা ‘ভুবন মাঝি’ চলচ্চিত্রের বিখ্যাত গান কালিকা প্রসাদের লেখা ও সুর করা ‘আমি তোমারই তোমারই তোমারই নাম গাই’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তাদের পরিবেশনা শুরু করে। এছাড়া আব্দুল লতিফের ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করলিরে’, গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের কথা ও শ্যামল গুপ্তের সুরে ‘আমরা সবাই বাঙ্গালী’, হাছন রাজার গান ‘বাউলা কে বানাইলোরে’, গিরীন চক্রবর্তীর ‘নাও ছাড়িয়া দে’, লালনের ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, শাহ্ আব্দুল করিমের ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল’, নজরুল সংগীত ‘রূমঝুম রূমঝুম কে বাজায়’, জালাল উদ্দিনের ‘রসিক আমার মন বান্ধিয়া’, রাধারমনের ধামাইল গান ‘রসে রঙ্গে রাই রঙ্গিনী নাচিয়া বেড়ায়’, শাহ্ আব্দুল করিমের ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ গান দিয়ে তাদের ১১টি গানের পরিবেশনা শেষ করে। বহ্নিশিখা ছাড়াও গোহাটি, ত্রিপুরা, শিলচরের বিশিষ্ট শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে।
