পতিসরে কবিগুরুর বর্ষা মঙ্গল অনুষ্ঠিত

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৪২

আব্দুর রউফ রিপন

রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা

 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম স্মৃতিধন্য কাচারি বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসর। ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী স্মরণে উত্সর্গকৃত’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের রচিত ও সুরের গুরু শৈলজারঞ্জন স্বরলিপিকৃত নৃত্যালেখ্য বর্ষা মঙ্গল উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শান্তিনিকেতনে প্রথবারের মতো ‘বর্ষা মঙ্গল’ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একান্ত সহচর সংগীতগুরু শৈলজারঞ্জন মজুমদার নানা কৌশলে কবিগুরুর কাছ থেকে ১৬টি গান রচনা করে নেন। কখনো নানা রাগে গান সৃষ্টির কথা বলে, কখনো বর্ষা নিয়ে গান তৈরির বায়নায় গানগুলো আদায় করে নেন শৈলজারঞ্জন মজুমদার। আর এভাবেই যখন ১৬টি গান রচিত হলো তখন সে গানগুলো সমষ্টি হয়ে শৈলজারঞ্জনের সুরে পরিণত হলো গীতি-আলেখ্য ‘বর্ষা মঙ্গল’-এ। যা প্রথম পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবদ্দশায় ১৯৩৯ সালে। সেই বর্ষা মঙ্গলই ২০১৯ সালে রবি ঠাকুরের কাচারি বাড়ি নওগাঁর পতিসরে দেবেন্দ্র মঞ্চে উপস্থাপিত হয় নৃত্যালেখ্য রূপে। বর্ষা নির্ভর ১৬টি গানের সঙ্গে যুক্ত হয় নাচের মুগ্ধকর পরিবেশনা আর নেপথ্যে উচ্চারিত হয় প্রতিটি গানের সৃষ্টিকথা।

ঢাকার চয়নিকার অন্যতম কর্ণধার আচার্য শৈলজারঞ্জন মজুমদার গবেষক এস বি বিপ্লবের উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি পতিসরে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কালিগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশনের সভাপতি এবং রবীন্দ্রস্মৃতি সংগ্রহ ও গবেষক মতিউর রহমান মামুন।

পতিসরের দেবেন্দ্র মঞ্চে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের সভাপতি ও নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের সভাপতিত্বে ও কালিগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবীবের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর ড. সুজিত কুমার বসু। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য ড. স্বপন কুমার দত্ত, উপ-মহাদেশের বিশিষ্ট মনিপুরী নৃত্যগুরু গুরু দেবযানী চালিহা।

আলোচনা সভা শেষে বর্ষা মঙ্গলে ১৬টি নৃত্যালেখ্য পরিবেশন করেন ভারতের শান্তিনিকেতনের শিল্পীরা। রবীন্দ্রনাথের নির্দেশনায় যে যন্ত্রগুলো ব্যবহার হয়েছিল সেগুলোর আশ্রয়েই এগিয়ে যায় পরিবেশনা পর্ব। গানের সুরের সঙ্গে চলে নাচের দোলা। উল্লেখযোগ্য গানগুলো ছিল ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’, ‘শ্রাবণের গগণের গায়’, ‘আজি ঝরঝর মুখর বাদল দিনে’, এসেছিলে তবু আসো নাই’, ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’। আকাশবাণী ও দূরদর্শনের উপস্থাপিকা স্বপ্না দে ও শ্বাশ্বতী গুহর ধারাভাষ্যে গান গেয়ে শোনান শিখা চ্যাটার্জী, শুভশ্রী বসু ও মানস ভূল। তাদের গানের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করেন মিত বসু, তন্ময় পাল, তৃষ্ণেন্দু দে, সহেলী নন্দী, ঐন্দ্রিলা পাল ও তানিসা সিংহ। যন্ত্রসংগীতে ছিলেন অধ্যাপক চঞ্চল নন্দী ও সৌগত দাস। এছাড়াও অনুষ্ঠানের রাণীনগর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা কবিগুরুর সংগীত পরিবেশন করেন। এ সময় কবিগুরুর পতিসর বিভিন্ন এলাকার মানুষের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে ওঠে।