গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৪

মালেক সরদার

এখনকার সময়ে নারীরা আগের থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। আগে নারীরা শুধু ঘরমুখো কাজ নিয়েই ব্যস্ত হয়ে থাকত, এখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে ব্যাপারটা বদলে গেছে। ছোটো-বড়ো প্রায় সকল ধরনের কাজেই বেড়েছে নারীদের অংশগ্রহণ। পড়াশুনা, অফিস-আদালতসহ সরকারি-বেসরকারি সব কাজে নারীরা যুক্ত হচ্ছেন। ফলে তাদের প্রতিদিন বাড়ির বাইরে বের হতে হচ্ছে। ব্যক্তিগত পরিবহন ব্যবস্থা সবার নাগালের মধ্যে না হওয়ার কারণে নিয়মিত যাতায়াতের জন্য গণপরিবহনই শেষ ভরসা। কিন্তু আমাদের দেশের গণপরিবহনগুলো নারীদের জন্য কতটা নিরাপদ? বিভিন্ন সংস্থার জরিপে দেখা গেছে শারীরিক স্পর্শ, অশ্লীল ইঙ্গিত অথবা মুখের কথার দ্বারা বেশিরভাগ নারীই যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন গণপরিবহনগুলোতে। আর এক্ষেত্রে গণপরিবহনে সবচেয়ে বেশি যৌন হয়রানির শিকার হন বাসের চালক, হেলপারসহ পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা। তবে গণপরিবহনে পুরুষ যাত্রীদের দ্বারাও যে নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন না তাও কিন্তু নয়।

শুধু যৌন হয়রানিই নয় বরং ধর্ষণ এবং ধর্ষণ শেষে হত্যা করার মতো ঘটনাও আমরা দেখেছি। এসব কিছু থেকে খুব সহজেই অনুমেয় যে গণপরিবহনে নারীর প্রতি নিপীড়নের মাত্রা ঠিক কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে। কখনো বা ফাঁকা বাসে, আবার কখনো প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে কিংবা একজন পুরুষের সহযাত্রী হিসেবেও নারীরা নিরাপদ নয় বিকৃতমস্তিষ্ক মানুষগুলোর দ্বারা। দিনেরবেলা তো বটেই, রাতেরবেলা গণপরিবহনে সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ। প্রতিনিয়ত নারীরা এক ধরনের অসহায়ত্ব নিয়ে আমাদের দেশের গণপরিবহনগুলোতে চলাচল করেন। অনেক সময় তাদের সঙ্গে ছোটোখাটো কোনো অপরাধ সংঘটিত হলেও সামাজিকতা ও নিজের আত্মসম্মানের ভয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়া তো দূরের কথা কারো কাছে মুখ পর্যন্ত খোলেন না। ফলে অনেক ঘটনায় জনসম্মুখে আসে না।

এই নারীরা তো আমার-আপনার পরিবারেরই সদস্য। তাদের সঙ্গে এ ঘৃণ্যতা আর কতদিন! আমাদের  সময় এসেছে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের।  সচেতনতা বাড়াতে হবে আমাদের নিজেদের মধ্যে। গণপরিবহনে কেউ কোনো যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করলে চুপ না থেকে সরাসরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। পাশাপাশি গণপরিবহন সংশ্লিষ্ট লোকজন নারীযাত্রীদের সঙ্গে অশালীন কোনো আচরণ বা যৌন হেনস্থার মতো এমন ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে পড়লে প্রথমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে পরিবহন মালিকদের।

আর গণপরিবহনে চলাফেরা করার ক্ষেত্রে নারীদের হতে হবে সচেতন। কেউ কোনো অশালীন আচরণ করতে চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে প্রতিবাদ। প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। এসব অপরাধ রোধে এগিয়ে আসতে হবে পরিবহন মালিকদেরও। এছাড়াও গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়াতে হবে। রাতেরবেলা বাসে পর্যাপ্ত আলো থাকাটা জরুরি, সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো যেতে পারে বাসের মধ্যে। বিশেষ করে রাতেরবেলা রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল বাড়াতে হবে। সঙ্গে গণপরিবহনে কোনো নারীর সঙ্গে যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করা হলে তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে হবে। তা না হলে গণপরিবহনে নারী নিরাপত্তার বিষয়টা আমাদের কাছে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়েই থাকবে।

n লেখক : শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়