স্পোর্টস রিপোর্টার
দুটি চার দিনের ম্যাচ ও তিনটি ওয়ানডে খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। মুমিনুল হকের নেতৃত্বে সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ, এনামুল হক বিজয়, নুরুল হাসানরা খেলবেন লঙ্কানদের বিরুদ্ধে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথম ম্যাচ ও ৩০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচ শুরু হবে।
টেস্ট বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে শ্রীলঙ্কা সফরটা মুমিনুলের জন্য লংগার ভার্সন ম্যাচ খেলার মাঝে থাকা এবং টেস্টের প্রস্তুতির জন্য বড়ো ক্ষেত্র। এই সফরে দুটি চারদিনের ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন এই বাঁহাতি। আগামী নভেম্বরে ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টের প্রস্তুতি সারতে শ্রীলঙ্কায় বড়ো ইনিংস খেলতে চান মুমিনুল।
শ্রীলঙ্কা যাওয়ার আগে বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেছে ‘এ’ দল। ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থাপন করেননি মুমিনুল। তবে ভারত সফরের প্রস্তুতি নজর থাকবে এই বাঁহাতির।
শ্রীলঙ্কা যাওয়ার আগে সংবাদ মাধ্যমকে মুমিনুল বলেছেন, ‘আমি যেহেতু চারদিনের ম্যাচ বেশি খেলি, টেস্ট খেলি, সামনে ভারত সফর আছে। সে হিসেবে এটা আমার জন্য ভালো প্রস্তুতি হবে বলে মনে হয়। ওখানে একটু গরম আছে। আমি যদি কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বড়ো ইনিংস খেলতে পারি, তাহলে আমার জন্য ভালো হবে।’
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন মুমিনুল। ব্যাটিং অর্ডার বদলে গেলে এই বাঁহাতি প্রথম ইনিংসে ৫২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ রান করে আউট হয়েছিলেন।
সম্প্রতি বিসিবি একাডেমির হয়ে ভারতের কর্নাটকে মিনি রঞ্জি ট্রফি খেলে এসেছেন মুমিনুল। ঐ সফরে সেঞ্চুরিও করেছিলেন তিনি। মিনি রঞ্জি ট্রফির অভিজ্ঞতা শ্রীলঙ্কায় কাজে দিবে বলে আশা করছেন ২৭ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যান।
তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই কাজে দিবে। আপনি যেখানেই খেলেন, ভালো করলে এটা অন্য জায়গায় কাজে দিবে। জিনিসটা হলো আপনি কীভাবে দেখছেন। আপনি যদি পাড়ার ক্রিকেটও খেলেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন আপনার সিরিয়াসনেস, পেশাদারিত্ব যদি থাকে, তাহলে সব জায়গায় পারফরম্যান্স আপনার প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এবং তা কাজে দিবে।’
নভেম্বরে ভারত সফর থেকেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অধীনে খেলা শুরু করবে বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কারণে সাদা পোশাকে বাংলাদেশের খেলা বাড়বে। টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত মুমিনুল অবশ্য টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বিষয়ে অনেক রোমাঞ্চিত নন।
নিজের ওপর প্রত্যাশার চাপ না দিয়ে স্বাভাবিক ক্রিকেটই খেলতে চান তিনি। টেস্টে ৮ সেঞ্চুরির মালিক এই ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘প্রত্যেকটা টেস্ট যেমন, আমার কাছে এটাও এমন। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অনেক বড়ো করে দেখতে হবে, অনেক উঁচু থাকবে প্রত্যাশা এমন না। আমি যদি নিজের কাছে খুব বেশি চাওয়া-পাওয়া করি, তাহলে চাপ হয়ে যাবে। এভাবে চিন্তা না করে, প্রতিটি টেস্ট ম্যাচের আগে আমি যেভাবে প্রস্তুতি নেই, আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেশের হয়ে খেলতে প্রতি ম্যাচে যেভাবে প্রস্তুতি নেই, ঐভাবেই কাজ করব।’
২০১৩ সালে অভিষেকের পর থেকে একটানা খেলে যাচ্ছেন মুমিনুল। ছয় বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পার করেছেন। সম্প্রতি নিয়মিত ‘এ’ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে জাতীয় দলের নেতৃত্বে আসার চিন্তা এখনই নেই মুমিনুলের। তিনি বলেছেন, ‘আমার এমন কোনো চিন্তা ভাবনা নাই। ঐ সিরিজে ছিলাম। আমি অধিনায়ক হিসেবে নিজের মাঝে যতটুকু পারি জবাবদিহিতা রাখার চেষ্টা করি। ঐভাবে নেতৃত্ব দিতে চেষ্টা করি। দিন শেষে দেখি, ঐভাবে কাজ করতে পেরেছি কিনা।’
