জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে কাল নিউইয়র্কে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:১৭

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আট দিনের সফরে আগামীকাল শুক্রবার নিউ ইয়র্কে যাত্রা করবেন। চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ এবার জাতিসংঘে ত্বরান্বিত বৈশ্বিক প্রচষ্টা চালাবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল বুধবার জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে যোগদান বিষয়ে এক সাংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর সাধারণ পরিষদের দুটি অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাবগুলো এখনো প্রাসঙ্গিক। তবে এবার নতুন কোনো প্রস্তাব দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্রসচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবারের নিউ ইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে দুটি সম্মাননা পাচ্ছেন। বাংলাদেশে সফল টিকাদান কর্মসূচির জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই) প্রধানমন্ত্রীকে ভ্যাকসিন হিরো সম্মাননা দেবে। আর ইউনিসেফ এক অনুষ্ঠানে ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ দেবে প্রধানমন্ত্রীকে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএ ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তার সঙ্গে ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে শুক্রবার বিকালে আবুধাবির উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। ফ্লাইটটি আবুধাবিতে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে (স্থানীয় সময়) আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এক দিনের যাত্রাবিরতির পরে ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় (স্থানীয় সময়) ইত্তেহাদ এয়ার ওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কের পথে যাত্রা করবেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে (স্থানীয় সময়) নিউ ইয়র্কে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে কো-চেয়ার হিসেবে জাতিসংঘ ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলে (ইসিওএসওসি) একই সঙ্গে ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বহুপাক্ষিক প্যানেল বৈঠক পরিচালনা করবেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী অছি পরিষদে ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ বিষয়ে উচ্চপর্যয়ের বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ হলে ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটে বক্তব্য রাখবেন এবং ‘রিকগনাইজিং পলিটিক্যাল লিডারশিপ ফর ইম্যুনাইজেশন ইন বাংলাদেশ’বিষয়ক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সদর দপ্তর (ইউএনএইচকিউ) বুথে জাতিসংঘ মহাসচিবের স্পেশাল অ্যাডভোকেট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স ফর ডেভেলপমেন্ট কুইন মেক্সিমার সঙ্গে বৈঠক করবেন।

তিনি ইউএনএইচকিউর কনফারেন্স রুম ৭-এ গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপ্টেশন আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তিনি নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত স্টেট লাঞ্চনেও অংশ নেবেন।

তিনি ইউএনএইচকিউর কনফারেন্স রুম ১১তে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও ওআইসি সচিবালয় আয়োজিত মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের অবস্থার ওপর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও যোগ দেবেন।

শেখ হাসিনা ইউএনএইচকিউর ইসিওএসওসি চেম্বারে ‘লিডারশিপ ম্যাটার্স-রিলেভ্যান্স অব মহাত্মা গান্ধী ইন দ্য কন্টেম্পোরারি ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়া তিনি লোটে নিউ ইয়র্ক প্যালেস হোটেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে টেকসই উন্নয়নের (এসডিজি সম্মেলন) ওপর উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামে ‘লোকালাইজিং দ্য এসডিজিস’-এ প্রধানমন্ত্রী কো-মডারেটরের দায়িত্ব পালন করবেন।

বাংলাদেশ প্রধনামন্ত্রী কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসে ‘এ কনভারসেশন উইথ অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন।

একই দিনে লোটে নিউ ইয়র্ক প্যালেস হোটেলে বাইলেটারেল মিটিং রুমে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সবার জন্য স্যানিটেশন ও পানির সভাপতি কেভিন রাডের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ হাউজে একটি নৈশভোজে অংশ নেবেন।