হুয়াওয়ের কর্মকর্তাকে মুক্তি না দিলে কঠিন পরিণতি

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৩৩

ইত্তেফাক ডেস্ক

চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝুকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে কানাডার প্রতি আহবান জানিয়েছে চীন। তাকে মুক্তি দেওয়া না হলে কানাডাকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে দেশটি। চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী লি ইউচেং কানাডার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বেইজিংয়ের অবস্থান স্পস্ট করেন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মেং’র গ্রেফতারকে ‘খুবই নোংরা’ বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে। খবর বিবিসি’র।

প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠাতা মেং হুয়াওয়ের মেয়ে। তার বিরুদ্ধে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১ ডিসেম্বর তাকে ভ্যাঙ্কুভারে আটক করা হয়। যেকোনো সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হতে পারে। আর যুক্তরাষ্ট্রে দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে চীন বলছে, তিনি কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। গত শুক্রবার কানাডার একটি আদালতে তাকে হাজির করানো হয়। তবে তাকে জামিন দেওয়া হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত আজ সোমবার আসতে পারে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে, ভ্যাঙ্কুভারে বিমান পরিবর্তনের সময় তাকে গ্রেফতার করে কানাডা তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে। এতে আইন অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এই গ্রেফতার অযৌক্তিক। চীন কানাডাকে গ্রেফতার হওয়া মেং’কে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচেছ। অন্যথায় যেকোনো ধরণের পরিণতির পূর্ণ দায়ভার কানাডাকেই বহন করতে হবে। যদিও কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেছেন, এই মামলায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। মেং নিয়ম মোতাবেক কনস্যুলার সুবিধা পাবেন। এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, মেং’র গ্রেফতারের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বন্দি বিনিময়ের অনুরোধেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

খবরে আরো বলা হয়েছে, মেং’র গ্রেফতার চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দুই দেশ ইতিমধ্যেই বাণিজ্য বিবাদে জড়িয়ে আছে। ১ ডিসেম্বর দুই দেশের নেতারা এই বাণিজ্য যুদ্ধ ৯০ দিনের জন্য স্থগিতে সম্মত হলেও, সেদিনই গ্রেফতার করা হয় মেং-কে। প্রসঙ্গত, হুয়াওয়ে বিশ্বের সর্ববৃহত্ টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশ ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। হুয়াওয়ে সম্প্রতি অ্যাপলকে টপকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।