পা আমাকে একা রেখে দূরত্ব বাড়ায়

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৮

পথে পা রাখার পর জেগে উঠি, দেখি— আমি একা,

নৈঃশব্দ্যের চাদর আমাকে ঘিরে আছে চারদিক,

কেন এরকম হয়, কেন মনে হয় ভুলপথে হাঁটি,

ভাবি, কোন দিকে গেলে ভালো হয়,

উপকার হয়— ডানে, বামে নাকি সোজা চোখ বরাবর,

বুঝতে পারি না আমি

‘পথের ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি,

নাকি পথ আমার পায়ের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে’—

বার বার, নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করি,

আমি কি নির্ভুল পথে পা রেখে এগুচ্ছি,

না পা আমাকে নীরব পাথর বানিয়ে

ভুল ঠিকানায় দাঁড় করিয়ে রেখেছে?

চোখের সামনে কুটিল চিন্তার চিহ্নসহ এই পথ

জিলাপির প্যাঁচ কষে চলে গেছে দূরে, বহু দূরে!

 

সহিষ্ণুতা হারিয়ে অলক্ষে হাঁটে নানা মতবাদ,

সেখানে চোখের দৃষ্টি বিন্দুমাত্র পৌঁছায় না—

মত অনুযায়ী সব পথ এক হবে ভাবা ঠিক নয়,

পথ নিয়ে আছে মতভেদ,

আছে নিজ নিজ কথা, তবে

মাঝে-মধ্যে কোনো কোনো মত

স্নায়ুতন্ত্রে এসে উস্কে দেয় ক্রোধ, আর

গোপনে ছড়ায় শয্যাকণ্টকীর জ্বালা— 

তখন নিঃশব্দে মাথার ভিতর হানা দেয়

                             শূন্য-পকেটের দুঃসময়!

মনে হয়, এই দেহ থেকে সেই কবে

থেমে গেছে প্রোটিনের অভাবে পেশির সূক্ষ্ম কারুকাজ!

অসহায় আমি, এই সব দেখে কষ্ট হয়, বাড়ে

স্মৃতির ঐতিহ্যে গেঁথে থাকা ব্লাক আউটের কঠিন যন্ত্রণা—

 

 

পুরোটা শরীর তাই অবসন্ন,

সময় ঝিমুচ্ছে ফুটপাতে একাকী এখন,

তার পাশে হাইরাইজ বিল্ডিং ছুঁয়ে বাতাস থমকে আছে,

বিন্দুমাত্র নড়ছে না, অথচ দেখুন—

পা আমাকে একা রেখে দূরত্ব বাড়ায়,

ভাবখানা, এই অধমের ভার বহনের দায়

অযথা সে কেন নেবে?

মনে হয় বার বার

মাথাকে নিষ্ক্রিয় করে মন এইমাত্র দিয়েছে উড়াল

অসীম বিস্ময়ঘেরা শূন্যতার দিকে,

ভয় পাই, পাশে নেই কেউ, 

নিভে গেছে যত্নে ধরে রাখা হীরার উজ্জ্বল অহংকার—

শুধু আমি, এই মধ্যরাতে পড়ে আছি নীরব পল্টন মোড়ে, একা!