বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের মাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জারজীর্ণ টিনের ঘরেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান। প্রায় দুই যুগ ধরে এভাবেই চলছে বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম।
টিনের চালার ঘরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। জং ধরে ছিদ্র হয়ে গেছে চালের টিন। বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে, কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় শ্রেণিকক্ষের মেঝে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
শনিবার শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের ছিদ্র দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে আমাদের বই-খাতা ভিজে যায়। কবে আমরা পাকা ঘরে বসে ক্লাস করতে পারব? অন্য বিদ্যালয়ের মতো পাকা ঘরে ফ্যানের নিচে বসে আমরা পড়তে চাই।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জরাজীর্ণ তিনটি কক্ষে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান। বিদ্যালয়ে চার জন শিক্ষক ও শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতি বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করেছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ঐ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম দুলাল বলেন, এ বিদ্যালয়ে আমরা পড়াশোনা করেছি। দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণ হয়নি, বিষয়টা দুঃখজনক।
অভিভাবক আলম হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের কক্ষগুলোর অবস্থা ভালো না। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভিতর পানি পড়ে। যার কারণে বাচ্চারা স্কুলে যেতে চায় না। এ বিদ্যালয়ের জন্য নতুন একটি পাকা ভবন চাই।
দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান জানান, আমরা বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান করছি। শ্রেণিতে পাঠদান শেষে শিক্ষকদের বসার জন্য কোনো কক্ষ নেই। পঞ্চম শ্রেণির কক্ষেই আমরা বসি। প্রাক-প্রাথমিকের উপকরণ রয়েছে, কিন্তু কক্ষের অভাবে তাদের ক্লাস নিতে পারি না।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রতি বছরের বরাদ্দের তালিকায় মাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রথমে রয়েছে। আশা করছি শিগগির ঐ বিদ্যালয়ের সমস্যার সমাধান হবে।
