ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে একের পর অনিয়ম প্রকাশ পাচ্ছে। আর এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অনিয়মের জন্য গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যকে দায়ী করে কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবি উঠেছে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নানা অনিয়ম ও গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন, থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটির মূল ক্যাম্পাসসহ ৪টি ক্যাম্পাসে মোট ২৪ হাজার শিক্ষার্থী পড়ছে। নতুন নতুন সেকশন চালুর কারণে শিক্ষার্থী সংখা বেড়েছে। অথচ এই সময়ে কোনো নতুন অবকাঠামো হয়নি। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবকাঠামোর তুলনায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থী রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটিতে।
প্রতিষ্ঠানটির মূল ক্যাম্পাসের প্রতিটি শ্রেণিতে (প্রভাতি ও দিবায়) মোট ৯টি সেকশন রয়েছে। সে হিসাবে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৯০টি সেকশন। এছাড়া বসুন্ধরা ও আজিমপুরের প্রতি শ্রেণিতে ৬টি হিসাবে ৬০টি এবং ধানমন্ডিতে ৪টি করে মোট ৪০টি সেকশন রয়েছে। এছাড়া ইংরেজি ভার্সনে ৪টি সেকশন রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতো আছেই। স্কুলের কোনো কোনো ক্লাসরুমে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮০ জনেরও বেশি।
ফলে এসব শ্রেণিতে পাঠদান হয় না বললেই চলে। শ্রেণিকক্ষে গাদাগাদি করে বসতে হয় ছাত্রীদের। পাঠদানের পরিবেশই থাকে না শ্রেণিকক্ষে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানিয়েছেন, এত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে পাঠদান সম্ভব নয়। তিনি প্রতি সেকশনে নির্ধারিত সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির পরামর্শ দেন। ভর্তিতে অভিভাবকদের চাপ এবং গভর্নিং বডির অতি আগ্রহের কারণেই শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
চলতি শিক্ষাবর্ষেও দুই শতাধিক অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজে এমন অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ একাধিক সদস্য মূল ভূমিকা রাখছেন। বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরে এমন একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল বছরের শুরুতেই।
প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে মূল ক্যাম্পাস ছাড়াও ২০০৪ সালে বসুন্ধরায়, ২০০৫ সালে ধানমন্ডিতে এবং ২০০৭ সালে আজিমপুরে শাখা চালু হয়। স্কুল পরিচালনা নীতিমালায় কোনো শাখা ব্যবস্থা চালুর বিধান না থাকলেও ভালো স্কুল বিবেচনায় ‘স্কুলের শাখা’ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা বোর্ডের উপ-পরিদর্শক রবিউল আলম।
ঢাকা বোর্ড জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বসুন্ধরা শাখার নিম্ন মাধ্যমিক পর্যন্ত অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু এই ক্যাম্পাসটিতে নবম-দশম এমনকি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠদান চলছে। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদান সেখানে অনুমোদন ছাড়া চলছে বলে জানান বোর্ডের পরিদর্শক রবিউল আলম ।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে এক প্রতিবেদনে ঢাকা বোর্ড জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো নয়, অপর্যাপ্ত। ৩৬০ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৩টি টয়লেট রয়েছে। যা অপরিচ্ছন্ন।
গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ নিয়ে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যে অভিযোগগুলো আসছে তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আরো নেওয়া হবে, যাতে একটা আদর্শ প্রতিষ্ঠান হয়। ভিকারুননিসায় ভবিষ্যতে যেন অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি না হতে পারে সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সচিব বলেন, আমি, আমার মন্ত্রী বা আমার বিভাগ, এমনকি মাউশি কখনও কোনো ভর্তির তদবির করেনি, চাকরি তো দূরের কথা। শিক্ষক নিয়োগ আমরা করি না, ম্যানেজিং কমিটি এই কাজটি করে। তারা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন, তারাই সে কাজটি করেন। এখন যে প্রমাণগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।
