পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ কিছু ক্ষেত্রে ভালো করলেও আরো অনেক কাজ করতে হবে। এজন্য সকল অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি এবং বাংলাদেশ: এসডিজি অর্জনে জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসডিজি অর্জনে আমরা সঠিক পথেই আছি। দারিদ্র্য দূরীকরণ, সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, শিশু ও মাতৃত্বজনিত মৃত্যু হ্রাস, জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য হ্রাস, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিতসহ যে কয়েকটি বড়ো চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো কাটিয়ে ওঠতে হবে। অতীতের মতো এসব চ্যালেঞ্জ জাতিসংঘ এবং অন্য সকল অংশীজনের সহযোগিতায় সফলভাবে কাটিয়ে ওঠতে পারব বলে বিশ্বাস করি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যে ক্ষতির সম্মুখীন হব- সেটি এখনো একটি বড়ো হুমকি হয়ে রয়েছে। সরকার নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (বিসিসিএসএপি) তৈরি করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাস এবং হুমকি প্রতিরোধে স্থিতিশীলতা বিকাশে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদের সাথে সমন্বয় করে বেশ কিছু প্রকল্প সরকার বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন জাতিসংঘের ২৩টি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত জাতিসংঘ কান্ট্রি টিম (ইউএনসিটি) যৌথভাবে সরকারকে এসডিজি অর্জনে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আরো বৃহত্তর, দীর্ঘমেয়াদি এবং বৈশ্বিক পুঁজির নিশ্চয়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। আশা করি, জাতিসংঘ ব্যবস্থায় যে সকল বন্ধুরা আছে তারা আমাদের এ প্রচেষ্টায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, সফলভাবে এসডিজি অর্জনের জন্য রাজনৈতিকভাবে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিমধ্যে অনেক উদ্ভাবন এবং উন্নয়ন সমাধান উন্নত করা হয়েছে। তবে আরো অনেক কিছু করা দরকার।
জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো বলেন, বৈশ্বিক লক্ষ্য নিয়ে নিউইয়র্কে হতে যাওয়া ৭৪তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের আগে ঢাকার এ সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ।
সম্মেলনে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম এবং ইউএনএফপিএ’র আঞ্চলিক পরিচালক (এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল) বিজোরন অ্যান্ডারসন উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন।
