ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার দেশের পার্লামেন্ট স্থগিত করার পর যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল সে বিষয়ে আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্টে টানা তিন দিনের শুনানি গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। অপেক্ষা এখন রায় ঘোষণার। আগামী সপ্তাহে যে কোনো দিন রায় হতে পারে। গতকালের শুনানিতে পক্ষে বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক হয়।
এদিন সরকারের যুক্তি ছিল, রাজনৈতিক প্রয়োজনে যে কোনো দেশের সরকার এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করার অধিকার রাখে। এটি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয়। অন্যদিকে, বিরোধীরা বলছেন, সরকারের পার্লামেন্ট স্থগিতের রীতি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী বরিস অসত্ উদ্দেশ্যে দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত করেছেন, যা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার চরম অপব্যবহার। এতে সরকারকে জবাবদিহি করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আইনপ্রণেতারা। নো-ডিল ব্রেক্সিট নিয়ে আইনপ্রণেতারা যাতে পার্লামেন্টে বাধার সৃষ্টি করতে না পারেন সেই জন্য এমনটি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে দেশটির আদালতও দ্বিধাবিভক্ত ছিল এই ইস্যুতে। ইংল্যান্ডের হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন, বিষয়টি রাজনৈতিক। আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে পৃথক মামলায় স্কটল্যান্ডের ‘কোর্ট অব সেশন’ সরকারের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ব্রেক্সিটবিরোধী প্রচারক জিনা মিলার এবং কোর্ট অব সেশনের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের এখন দুটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। পার্লামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে আদালত রায় দিতে পারে কি না এবং যদি আদালত রায় দিতে পারে, তবে প্রধানমন্ত্রীর পার্লামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত বৈধ কি না? প্রধানমন্ত্রী বরিসের পদক্ষেপ যদি অবৈধ প্রমাণ হয় তখন তাকে কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে কি না সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ব্রিটেন জুড়ে।
সর্বোচ্চ আদালতের মোট ১২ জন বিচারকের মধ্যে ১১ জনই শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। বিবিসি জানায়, সরকার মোটামুটি ধরে নিয়েছে যে বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বলে বিবেচিত হবে। ফলে, কিছু সতর্কবাণীও আসতে পারে। তবে ১৪ অক্টোবর রানির ভাষণের মাধ্যমে অধিবেশন চালুর পরিকল্পনায় আদালত বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না বলে সরকারের প্রত্যাশা।
এদিকে, যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বিচ্ছেদ কার্যকরে একটি চুক্তি সম্পাদনের জন্য নতুন প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। গতকাল ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টি রিন বলেছেন, ৩১ অক্টোবর চুক্তিরভিত্তিতে বিচ্ছেদ চাইলে ১২ দিনের মধ্যে যুক্তরাজ্যকে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব নিয়ে হাজির হতে হবে।
