লালমনিরহাটে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:০৩

লালমনিরহাটে ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রাইভেট শিক্ষক শাহীন আলমকে (২১) পুলিশ আটক করেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ভোরে জেলা সদরের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের উমাপতি হর নারায়ন গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা না নিয়ে এই ধর্ষকের সাথে গত ৭ আগস্ট রাতে পুলিশের এসআই মইনুল ইসলাম মধ্যস্থতায় ধর্ষিতা শিশু শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর পুলিশের রংপুরের জিআইজি অফিসে ধর্ষিতা মেয়ের বাবা অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি সম্পর্কে জানাজানি হলে ১৯ সেপ্টেম্বর ভোরে ধর্ষক প্রাইভেট শিক্ষককে পুলিশ আটক করেন। সেই সাথে তড়িঘরি করে পুলিশের এসআই মইনুলকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সদর থানা হতে হাতীবান্ধা থানায় বদলি করে দেয়া হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে। 

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী অচিমন বিবির বাড়িতে স্থানীয় কয়েক শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতেন একই ইউনিয়নের উমাপতি হরনারায়ণ গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে শাহিন আলম। সেখানে সপ্তম শ্রেণির ওই মেয়েটিকেও মাসিক ৪০০ টাকা বেতনে পড়তে দেন তার ভ্যানচালক বাবা। কিছুদিন পড়ার পর শাহিন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। সে রাজি না হলে শিক্ষক তার মোবাইল ফোনে আগে গোপনে তোলা কয়েকটি ছবি দেখিয়ে হুমকি দেন। 

আরও পড়ুন : খালেদের টর্চার সেলে নির্যাতনের সরঞ্জাম

শিক্ষক তাকে বলেন- যদি তার প্রস্তাব রাজি না হয়, তবে এসব ছবি এডিটিং করে খারাপ বানিয়ে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবেন। এই ভয় দেখিয়ে ৭ম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সাথে প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন তিনি। কয়েক দিন পরে মেয়েটি অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়লে বাচ্চা নষ্ট করতে শাহীন আলম ওষুধ খাওয়ান। সেই ওষুধে গর্ভপাত হয়নি। ফলে গত ২৫ জুলাই ওই শিক্ষার্থীকে কৌশলে তুলে নিয়ে শহরের মেরী স্টোপ ক্লিনিকে অবৈধ গর্ভপাত ঘটান। 

বিষয়টি জানাজানি হলে ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে মেয়েটির বাবা গত ১১ আগস্ট সদর থানায় একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই পুলিশের এসআই মাইনুল ইসলাম বাড়িতে এসে মেয়েটিকে বলেন- বিয়ে করবা নাকি জরিমানা নিবা? একপর্যায়ে এসআই বলেন, ৫০ হাজার টাকা দিলেই ছেলেপক্ষ বিয়েতে রাজি হবে। মেয়েটির বাবা জানান, নিরুপায় হয়ে এসআই মাইনুল ইসলামের প্রস্তাবে রাজি হয়ে সুদের ওপর ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ছেলেকে যৌতুক দিয়েছেন।

গত ২৩ আগস্ট উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের শহিদুল কাজির কাছে বিয়ের নিবন্ধন হয়। তবে মেয়ের বয়স কম হওয়ায় কাজি কাবিননামা সরবরাহ করেনি। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে শাহিন আলম মেয়েটিকে বাবার বাড়ি রেখে পালিয়ে যায়। সেই সাথে বিয়ে তালাক হয়ে গেছে বলে গ্রামে প্রচার করে।

এ ব্যাপারে ধর্ষিতার বাবা বলেন, পুলিশ ধর্ষণের অভিযোগ নিলে আমি বিচার পেতাম। পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে উল্টো ধর্ষকের সাথে মেয়ের বিয়ে দেয়। এতে আমি বিপাকে পড়েছি। সেই সাথে ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত হওয়ার পথে। পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের চেয়াম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, মেয়ের বাবাকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। যেহেতু এটা ধর্ষণ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিষয়, তাই এটা আইনগতভাবেই সমাধান হওয়া উচিত। 

পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক জানান, আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের কোন ত্রুটি থাকলে তা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ইত্তেফাক/কেআই