মজুত পেঁয়াজের ৩০-৩৫ ভাগ নষ্ট পশ্চিমের জেলাগুলোতে সংকট

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫৫

এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে মণপ্রতি হাজার টাকা

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

দেশের প্রধান পেঁয়াজ উত্পাদনকারী পশ্চিমের জেলাগুলোতে পেঁয়াজের আকাল চলছে। সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে মণ প্রতি পেঁয়াজের দাম প্রায় হাজার টাকা বেড়েছে। এর কারণে খুচরা বাজারে দাম চড়ছে। প্রকার ভেদে  প্রতি কেজি  পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতীয়  পেঁয়াজের দাম চড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। পশ্চিমাঞ্চলে পেঁয়াজের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মজুত  পেঁয়াজের ৩০-৩৫ ভাগ পচে নষ্ট হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, গত রবি মৌসুমে  কুষ্টিয়া জেলায় ১১ হাজার ১৯০ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৬১৩ হেক্টরে, মেহেরপুর জেলায় ১ হাজার ৫৪৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ৭ হাজার ৭৮৭ হেক্টরে, মাগুরা জেলায় ৬ হাজার ৫৯০ হেক্টরে ও যশোর জেলায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টরে  পেঁয়াজের চাষ হয়। পশ্চিমের এ ছয় জেলায়  ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫৬০ টন  পেঁয়াজ উত্পাদন হয়। দেশের মধ্যে অন্যতম প্রধান  পেঁয়াজ উত্পাদনকারী এলাকা হচ্ছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা। এবার উপজেলায় ৬ হাজার ১১০ হেক্টরে  পেঁয়াজ চাষ হয়।  পেঁয়াজ উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১০ হাজার টন।  চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার  পেঁয়াজের ফলন ভালো ছিল।  কিন্তু ক্ষতি করে  পেঁয়াজ ওঠার আগে সর্বনাশা বৃষ্টি।

 পেঁয়াজ ওঠানোর সময় বৃষ্টি সহ্য করতে পারে না। পানি জমা খেতের  পেঁয়াজ ঘরে মজুত রাখা যায় না, পচে নষ্ট হয়। শৈলকুপা উপজেলা দেবতলা গ্রামের  পেঁয়াজ চাষি মশিয়ার রহমান জানান, তার ১ বিঘা জমিতে ৭০ মণ  পেঁয়াজ হয়েছিল। এ  পেঁয়াজ ঘরের মাচাং-এ মজুত রাখেন। এর মধ্যে ২৫ মণ  পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি জানান, অনেক চাষি পচা পেঁয়াজ বাছাই করে ফেলে দিয়েছে। পাইকপাড়া গ্রামের চাষি আকমল হোসেন জানান, বৃষ্টির পানি জমা খেতের  পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়েছে। চাষি দাম না পেলেও মজুতদারদের বাম্পার লাভ হচ্ছে।

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় কুমার কুন্ড জানান,  পেঁয়াজের যেসব খেতে পানি জমেছিল সে সব খেতের  পেঁয়াজ বেশি পচে নষ্ট হয়েছে। জলীয় অংশের পরিমাণ বেশি থাকায় সে সব  পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে বেশি। এ অঞ্চলের পেঁয়াজের বড়ো হাট হচ্ছে: ঝিনাইদহের শৈলকুপা ও মাগুরার লাঙ্গলবাঁধ। পেঁয়াজ ওঠার পর প্রতি মণ  পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৪০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা দরে। চাষিদের উত্পাদন খরচ ওঠে না। তারপর দাম চড়ে প্রতি মণ ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

কোরবানির ঈদের পর বাজার আরো চড়ে প্রতি মণ ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে সে  পেঁয়াজের দাম চড়ে ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান জানান, নতুন  পেঁয়াজ ওঠার পর প্রতি মণ ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন। তাদের এলাকায় প্রচুর  পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়েছে। চাষির পেঁয়াজ ফুরিয়ে গেলে দাম চড়েছে। প্রতি মণ ২ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে।