টেস্ট অধিনায়কত্ব
স্পোর্টস ডেস্ক
মিসবাহ উল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমিত ওভারের দলে বড়ো কোনো রদবদল আনেননি। তবে, সাবেক ক্রিকেটাররা মনে করছেন, অন্তত টেস্ট দলে কিছু পরিবর্তন আনাটা এখন খুবই জরুরি। এর মধ্যে দুই সাবেক অধিনায়ক জহির আব্বাস ও শহিদ আফ্রিদি মনে করছেন যে, টেস্টে এখন আর সরফরাজকে অধিনায়ক রাখার কোনো মানেই হয় না।
শহিদ আফ্রিদি সতীর্থ হিসেবেও বড়ো একটা সময় মাঠে পেয়েছেন সরফরাজকে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, টেস্ট অধিনায়কত্বে না থাকাটা সরফরাজের নিজের জন্যই ভালো হবে। তিন ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব করাটা তার বড়ো বাড়তি চাপ হয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি ও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বেশ সফল একজন অধিনায়ক।’
২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সরফরাজ। পরে তিনি ২০১৭ সালের শুরু থেকে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পান। মিসবাহ উল হকের অবসরের পর টেস্টের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাকে। ২০১৭ সাল থেকে তিনি সব ফরম্যাটেই পাকিস্তানের অধিনায়ক এখন অবধি পাকিস্তানকে তিনি ১৩টি টেস্ট, ৪৮টি ওয়ানডে ও ৩৪টি টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জিতেছেন চারটি টেস্ট, ২৬টি ওয়ানডে ও ২৯টি টি-টোয়েন্টি।
মিসবাহ উল হকের নেতৃত্বে পাকিস্তান টেস্ট র্যাংকিয়ের চূড়ায় উঠেছিল। অথচ সরফরাজের অধীনে এখন পাকিস্তান দলের অবস্থান সপ্তম। তাই জহির আব্বাস মনে করেন, পরিবর্তনের জন্য এটাই আদর্শ সময়। কিংবদন্তিতুল্য সাবেক এই ক্রিকেটা বলেন, ‘আমি মনে করি না, সরফরাজ এক সঙ্গে তিন ফরম্যাটের চাপ নেওয়ার সামর্থ্য রাখে। ওকে শুধু ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক রাখা উচিত। টেস্ট হলো ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন ফরম্যাট। ফলে, সেই ফরম্যাটের অধিনায়ক হওয়াটাও খুব কঠিন। দলের ভালোর জন্যই সরফরাজকে শুধু ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া উচিত।’
জহির খান অবশ্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বড়ো একটা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তিনি মনে করেন, মিসবাহ উল হককে একেই সঙ্গে নির্বাচক ও প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়াটা ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এতে করে মিসবাহর ওপর অনেক বেশি চাপ দেওয়া হচ্ছে। ওর এমনিতেই শীর্ষ পর্যায়ে কোচিং করানোর কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তার ওপর ওকে কোচিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচকের চাপও সামলাতে হবে।’
