লিখিত পরীক্ষা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩৮

ঢাবির ‘ক’ ইউনিটে ভর্তি

আরফিন শরিয়ত

ফেনী সরকারি কলেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন শাহেদা আক্তার শান্তা। পরীক্ষায় এমসিকিউ অংশ বেশ ভালো হলেও লিখিত পরীক্ষায় সন্তুষ্ট নন তিনি। তিনি বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষা ভালো করতে পারিনি। প্রশ্নের ধরন, আঙ্গিক এসব আগে থেকে বুঝতে পারলে পরীক্ষা সহজ হতো। প্রথমবার লিখিত পরীক্ষা হওয়ায় কারও কাছ থেকে এ নিয়ে ধারণাও নিতে পারিনি। পূর্ব থেকে ধারণা থাকলে গুছিয়ে উঠতে পারতেন বলে জানান এই পরীক্ষার্থী। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের অধীনে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার পর হল থেকে বের হয়ে এভাবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন তিনি।

শুধু শান্তা নয়, এমন পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করেছেন মো. জাহিদুল ইসলাম, ওয়াকিল আহমেদ হাসান, তামিম মুস্তারি রিফাত, এমরান আহমেদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশ্নপত্র সহজ হলেও সময়ের অভাব, আগে থেকে ধারণা না থাকা এমনসব কারণে ভালো করতে পারেননি পরীক্ষায়। ময়মনসিংহ থেকে আসা শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম আশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘পরীক্ষা মোটামুটি সহজ হয়েছে। লিখিত অংশ নিয়ে চিন্তায় আছি। তবে, আমি আশাবাদী।’

এদিকে লিখিত অংশের পদার্থ বিজ্ঞানের প্রশ্ন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ অংশে এক বড়ো ধরনের ভুল চোখে পড়েছে। প্রশ্নপত্রের পদার্থ বিজ্ঞানের লিখিত অংশের ইংরেজি অনুবাদে আদিবেগ দেওয়া থাকলেও বাংলায় আদিবেগ উল্লেখ করা হয়নি। যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। লিখিত পরীক্ষায় এ প্রশ্নের মান তিন। আদিবেগ বিহীন এ প্রশ্নের উত্তর মিলাতে গিয়েও অনেক শিক্ষার্থী পারেননি বলে জানান। তারা বলছেন, যদি বাংলায় আদিবেগ থাকতো তাহলে হয়তো উত্তর মিলাতে পারতেন। প্রশ্নের এমন ভুলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রশ্নটির উত্তর মেলাতে বারবার চেষ্টা করেছিলাম। পরে উত্তর না মিলাতে পেরে আমি এই প্রশ্নের উত্তর বাদ দিয়েছি। তবে প্রশ্নে বাংলায় অনুবাদ থাকায় ইংরেজি অনুবাদ আমি দেখিনি।’

এ বিষয়ে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘যদি প্রশ্নে ভুল থাকে তাহলে কমিটি তা দেখবে। আমরা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি লক্ষ্য রেখে সিদ্ধান্ত নেব।’

পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি। শিক্ষার্থীরা প্রশ্নের গুণগত মান ভালো বলে মত দিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, এবার নতুন যে সংস্কার সেটিও আছে। লিখিত পরীক্ষা নিয়েই এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।