শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
শেকৃবি সংবাদদাতা
বাংলাদেশে জন্মে এমন প্রতিটি ফসলের প্রজাতিই দেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বর্ধিত জনসংখ্যার প্রয়োজন মেটাতে প্রতিনিয়ত এদেশের জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বনভূমি ধ্বংস, মাত্রাতিরিক্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে এসব ফসলের অস্তিত্ব বর্তমানে হুমকির মুখে পড়ছে। ফলে অনেক ফসলের জাতই ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে এবং সেগুলো বিলুপ্তির সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যথাযথ সংরক্ষণ না করলে এসব ফসলের জাত হারিয়ে যাবে অচিরেই। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও গবেষণার লক্ষ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ‘সিড মিউজিয়াম’ ও ‘জিন ব্যাংক’। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুর রশিদ ভূঁইয়া ও অধ্যাপক ড. মো. ছরোয়ার হোসেন। হায়ার অ্যাডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের (হেকেপ) মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ওয়াজেদ মিয়া কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের চতুর্থ তলায় গড়ে তোলা হয়েছে এ জিন ব্যাংক ও সিড মিউজিয়াম, বীজ জাদুঘর। জিন ব্যাংকে ২৫ ধরনের ফসলের দেড় শতাধিক প্রজাতির জিন সংরক্ষণ করা হয়েছে। ১০০ প্রজাতির ধান, ১৩ প্রজাতির ভুট্টা, ২৪ প্রজাতির সবজি, ১৩ প্রজাতির তুলা, তিন প্রজাতির সরিষা ছাড়াও টমেটো, টমাটিলো, মরিচ, মসুর, মটর ও তিলসহ বেশ কয়েকটি ফসলের জিন নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এ ব্যাংকে। কোনো সংকটের কারণে একটি নির্দিষ্ট জাতের বীজ যেন চিরতরে হারিয়ে না যায় সেই লক্ষ্যে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। সিড মিউজিয়াম গড়ে তোলা হয়েছে ২০০ ধরনের ফসলের বীজ নিয়ে। যার মাধ্যমে বিভিন্ন ফসলের বীজের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. শহীদুর রশিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘জিন ব্যাংকে আমরা স্বল্প (২-৩ বছর) ও মধ্য (৬-৮ বছর) মেয়াদে জিন সংরক্ষণ করলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দীর্ঘ মেয়াদে জিন সংরক্ষণ করতে পারছি না। জিন ব্যাংকে যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাদের প্রয়োজনীয় জিন এখানে রাখতে পারবেন। মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কোন ফ্রিজে হলে ১৫-২০ বছর জিন সংরক্ষণ করা যায়। কোনো বাজেট না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। সিড মিউজিয়াম দেখাশোনার জন্য কোনো লোক নেই। অন্তত একজন লোক দরকার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে একটু সহযোগিতা করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং আমাদের কাজ আরো বেগবান হবে।’
