যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় জোটে যোগ দেবে না ইরাক

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৪২

পারস্য উপসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক নৌ-সামরিক জোটে যোগ দেবে না ইরাক। বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেয় বাগদাদ। তারা বলছে, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করছে ঐ সামরিক জোট। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঐ জোটে যোগদানের পরপরই ইরাকের এই ঘোষণা আসলো।

চলতি বছরের মে মাসে ওমান উপসাগরে চারটি ট্যাংকারে হামলার পর জুন মাসে ঐ এলাকায় আরো দুটি ট্যাংকারে হামলা হয়। ঐ সময় তেল ট্যাংকারের ওপর হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। শুরু থেকেই তেহরান ঐ অভিযোগ অস্বীকার করে। জুন মাসে ট্যাংকারে হামলার কয়েক দিনের মাথায় একটি চালকবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করে ইরানি বাহিনী। দেশটির দাবি, ড্রোনটি তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। আর ওয়াশিংটনের দাবি, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমাতেই ছিল। এরপরই পারস্য উপসাগরে ইরান ও ইয়েমেন সংলগ্ন পানিসীমার সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নৌ-সামরিক জোট গঠন করা হয়। ইতিমধ্যে ঐ জোটে যোগ দিয়েছে সৌদি আরব, বাহরাইন, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ইসরাইল ও যুক্তরাজ্য। সর্বশেষ ঐ জোটে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরব পারস্য উপসাগরে যৌথভাবে টহল শুরুর পর বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ঐ জোটে যোগ দেয়। এর পরপরই ইরাকের পক্ষ থেকে ঐ বিবৃতি দেওয়া হলো। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াম মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটে আবুধাবির যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আল সাহাফের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাগদাদ বিশ্বাস করে পারস্য অঞ্চলের নৌ-পথের সুরক্ষায় যেকোনো সামরিক জোট গঠন ঐ অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরো জটিল করবে। বাস্তব পরিস্থিতির কারণে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা একাধিক পথে মোড় নেবে। এই উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে ঐ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, ভারসাম্য ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর চাপ দেবে ইরাক।

মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, ইরাক নিজেদের স্বার্থ এবং ঐ অঞ্চলের প্রকৃতি ও উন্নয়নের কথা বিবেচনা করছে। আমরা বৃহত্ বিনিয়োগ কোম্পানির জন্য বৈঠকের কেন্দ্র এবং বড়ো বড়ো কোম্পানির বিনিয়োগকে উত্সাহিত করতে চাই।