সিদ্ধিরগঞ্জে মা ও তার দুই মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘাতক মো. আব্বাস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, ক্ষোভ থেকেই সুমনের ফ্ল্যাটে গিয়ে প্রথমে সুমনের স্ত্রী নাজনিন (২৮) ও তার দুই কন্যা সন্তান নুসরাত (৮) ও সায়মার (২) গলা কেটে হত্যা করি। এসময় চেঁচামেচি করলে তার নিজের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকেও (১৫) গুরুতর জখম করি। গতকাল শুক্রবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালতে তার এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজিজুল হক জানান, ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠালে আদালতে আব্বাস স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক জানান, আহত সুমাইয়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার মিজমিজি পাইনাদী সিআইখোলার আনোয়ারের ভবনের একটি ফ্ল্যাটে হত্যাকাণ্ডের পর বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুেকন্দ্রের ভেতর একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে খানসামার কাজ করার সময় ডিবি পুলিশ ঘাতক আব্বাসকে (৪০) গ্রেফতার করে। নিহত গৃহবধূ নাজনিন আক্তারের স্বামী সুমন বাদী হয়ে আব্বাসকে একমাত্র আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ঘাতক আব্বাস পটুয়াখালী জেলার পক্ষীয়া গ্রামের কালাম মুসুল্লির ছেলে। সিদ্ধিরগঞ্জের বাতানপাড়া এলাকার সাহাবুদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া আব্বাস ডেকোরেটরের দোকানে খানসামার কাজ করত।
জানা যায়, সুমনের স্ত্রীর বড় বোন ইয়াসমিনের সঙ্গে তার স্বামী আব্বাসের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। বিভিন্ন সময় কলহের কারণে তার স্ত্রী নাজনিনের বড় বোন ইয়াসমিনের পক্ষ নিয়ে কথা বলায় আব্বাসের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। গত মঙ্গলবার রাতে আব্বাস ও তার স্ত্রী ইয়াসমিনের ঝগড়া হয়। পরে নাজনিনের ভাই হাসান বড় বোনের স্বামী আব্বাসকে মারধর করেন। এ ঘটনার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
