রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ও ধানমন্ডি ক্লাবের ক্যাসিনোতে র্যাব অভিযান চালিয়েছে। র্যাবের সদস্যরা গতকাল শুক্রবার বিকাল থেকেই কলাবাগান ক্লাবে অবস্থান নেন। সন্ধ্যার পর র্যাব ধানমন্ডির মিরপুর রোডে মেট্রো শপিং মলে অবস্থিত ধানমন্ডি ক্লাবে অভিযান চালায়।
অভিযানের ব্যাপারে র্যাব-২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ রাত পৌনে ৮টার দিকে জানিয়েছেন, ‘আমরা কলাবাগান ক্লাবে অবস্থান করছি।’ কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার সামনেই তিনি বসা আছেন। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’
তবে রাত ৮টার দিকে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজসহ পাঁচ জনকে র্যাব আটক করে। র্যাব কলাবাগান ক্লাব থেকে ইয়াবা, একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও জুয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
গোয়েন্দা সূত্রে র্যাব জানতে পারে, কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ও ধানমন্ডি ক্লাবে ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর চলছে। এ খবর পাওয়ার পর অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরে বিকাল ৪টা থেকে মিরপুর রোডে কলাবাগান বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের অফিসের আশপাশে অবস্থান নেন র্যাবের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, শফিকুল আলম ফিরোজ কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ঢাকার নামকরা জুয়াড়ি সেন্টু ২০১৬ সালে কলাবাগান ক্লাবে ক্যাসিনো খোলেন নেপালি নাগরিক দীনেশ, রাজকুমার ও অজয় পাকরালের সঙ্গে অংশীদারিত্বে। এখান থেকে প্রতিদিন ২ লাখ টাকা করে চাঁদা নিতেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতা। আর চাঁদা তুলতেন রবিউল হাসান সোহেল ও আরমান। এদিকে ক্যাসিনোতে অভিযান শুরু হওয়ার পর বুধবার রাতে সোহেল সিঙ্গাপুরে চলে গেছেন।
মতিঝিলে ভিক্টোরিয়া ক্লাবে ২০১৫ সালে ক্যাসিনো চালু হয়। নেপালের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী দীনেশ, রাজকুমার ও বিনোদ মানালি এই ব্যবসা শুরু করেন।
উত্তরায় এপিবিএন অফিসের উলটো পাশে একটি ভবন ভাড়া করে চালু করা হয় আরেকটি ক্যাসিনো। তাদের পার্টনার হন তছলিম নামের স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা। এরপর ঐ এলাকায় ঐ প্রভাবশালী যুবলীগ নেতার তত্ত্বাবধানে স্থানীয় যুবলীগ নেতাদের মাধ্যমে আরো কয়েকটি ক্যাসিনো গড়ে তোলেন তারা। এর প্রতিটি থেকে দিনে ২ থেকে ৪ লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন সোহেল ও আরমান।
মালিবাগ-মৌচাক প্রধান সড়কের পাশের একটি ভবনে সৈনিক ক্লাব। অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের নামে এই ক্লাব চলে। আর এটি নির্ধারিত টাকায় ভাড়া নিয়ে ক্যাসিনো চালু করেন যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন এবং এ টি এম গোলাম কিবরিয়া। তাদের অংশীদার নেপালি নাগরিক প্রদীপ। এই ক্লাব থেকে প্রতিদিন ৪ লাখ টাকা চাঁদা পান যুবলীগের ঐ প্রভাবশালী নেতা।
বনানী আহমেদ টাওয়ারের ২২ তলায় ঢাকা গোল্ডেন ক্লাব খোলেন চাঁদপুরের ব্যবসায়ী আওয়াল পাটোয়ারী ও আবুল কাশেম। ক্লাবটি চালুর কিছুদিনের মধ্যেই কৌশলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বাড়ে ঐ প্রভাবশালীর মাসোহারার অঙ্ক। আর তোলাবাজ সোহেল ও আরমান জোর করে ক্লাবটির মালিকানায় ঢুকে যান। নেপালি নাগরিক অজয় পাকরালের তত্ত্বাবধনে চলত ক্যাসিনোটি। এখান থেকেও ঐ প্রভাবশালী যুবলীগ নেতার জন্য প্রতিদিন ৪ লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন সোহেল ও আরমান।
০
