জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে বৈশ্বিক আন্দোলনের ঢেউ ঢাকায়ও

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২৩

জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী স্কুলপড়ুয়া শিশুদের ডাকা ‘জলবায়ু ধর্মঘটে’ অংশ নিয়েছে ঢাকার শিশুরাও। ‘ফ্রাইডে ফর ফিউচার’ শীর্ষক আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে গতকাল শুক্রবার ঢাকায় কর্মসূচি পালন করে কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন। এসব কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিন হাজারের মতো শিক্ষার্থী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বড়োদের জোরালো ভূমিকা রাখার দাবি জানিয়েছে।

সুইডেনের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কিশোরী অ্যাক্টিভিস্ট গ্রেটা থানবার্গের ডাকে সংহতি জানিয়ে গতকাল শুক্রবার বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ শিশু জলবায়ু ধর্মঘটে অংশ নেয়। শিশুরা এক দিন স্কুলে না গিয়ে জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে রাস্তায় জড়ো হয়।

গতকাল ঢাকার প্রায় ৩৫টি স্কুল থেকে নানা রঙের পোশাক পরা কিশোর-কিশোরীরা সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জড়ো হয়। সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় আয়োজিত এক র্যালিতে তারা জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে স্লোগান দিতে থাকে। তাদের হাতে ছিল নানা বক্তব্য লেখা প্ল্যাকার্ড। স্লোগানের মূল কথা—ক্লাইমেট জাস্টিস। তাদের বক্তব্য—জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব এখনই পৃথিবীর মানুষের ওপরে পড়ছে, ভবিষ্যতে তা আরো বিপর্যয়কর হয়ে উঠবে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আজকের শিশুরাই। এ কারণে নিজেদের ভবিষ্যত্ রক্ষায় বড়োদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা। জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেও মানববন্ধন করেছে বেশ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন।

২০১৮-এর আগস্ট মাসের শুরুর দিকে, বিশ্বের শীর্ষ জলবায়ু বিজ্ঞানীরা হুঁশিয়ারি দেন যে, জলবায়ু উষ্ণতাকে ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। আর এজন্য সময় আছে মাত্র ১২ বছর। এই ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থেকে ০.৫ ডিগ্রিও যদি বাড়ে তবে খরা, বন্যা, চরম তাপ এবং দারিদ্র্যের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শত কোটি মানুষ। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিশ্বনেতারা এ বিষয়ে যথেষ্ট মনোযোগী নয় এবং দ্রুত সময়োপযোগী কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না, ফলে বিশ্বে এখন জলবায়ু জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাই জলবায়ু বিপর্যয় থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানান তরুণ শিক্ষার্থীরা।

ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের যুগ্ম নেটওয়ার্কের কো-অর্ডিনেটর সোহানুর রহমান বলেন, জলবায়ু সংকট আমাদের দেশ ও পৃথিবীর জন্য এক বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু সংকট উত্তরণে প্রয়োজন দূষণকারী দেশগুলো থেকে প্রাপ্য ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা।

একশনএইড বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম পরিচালক মো. আসগর আলী সাবরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে সকল সংকট তৈরি হচ্ছে তা সমাজে আরো বেশি অসমতা সৃষ্টি করছে। এই অসমতা দূর করতে এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করতে জোরালো দাবি তোলা প্রয়োজন, যা বিশ্বব্যাপী তরুণদের মধ্যে থেকে উঠে আসছে।

তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা একটি বড়ো ইস্যু। আন্তর্জাতিক অর্থায়নে দেখা যায়, বাংলাদেশের মতো যে সকল দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের ক্ষেত্রেই বরাদ্দ সবচেয়ে কম। এই বরাদ্দ বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে।