টঙ্গীর হোটেল ও বাসাবাড়ি থেকে মদ, বিয়ার জব্দ

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:১৪

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে টঙ্গীর জাভান হোটেল ও বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে মদ ও বিয়ারসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, জাভান হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ শাহেদ বাবুর নেতৃত্বে ঐ হোটেলে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে সারারাত অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছিল, গভীর রাতে চলত উচ্চ শব্দে গান-বাজনা এবং উদ্দাম নৃত্য। এসব কর্মকাণ্ডে এলাকায় শান্তি ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। এলাকাবাসীর একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন ও ওসি অপারেশন সুব্রত কুমার পোদ্দারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উক্ত হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে ৩৩ বোতল বিদেশি মদ ও ৬০ ক্যান বিয়ার জব্দ করা হয়। তল্লাশির সময় হোটেল থেকে যৌনকর্মী ও খদ্দেরসহ ১৮ জন নর-নারীকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক মাহাবুব (৪০) আতঙ্কিত হয়ে  হোটেল ভবনের তৃতীয় তলা থেকে লাফিয়ে বাইরে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়লে তার শরীরের অনেকাংশ ঝলসে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থার অবনতি হতে দেখে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

অপর দিকে, একই দিনের রাত ১২টার দিকে টঙ্গীর দত্তপাড়া হাউজ বিল্ডিয়ের একটি বাসা থেকে ৯৬ ক্যান বিয়ার ও ১২ বোতল বিদেশি মদসহ মিলন ও মহসিন নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানার এসআই মো. শাহীন মোল্লা।  উভয় ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

জাভান হোটেলের মালিক মো. বাদল শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার হোটেলে বারের সরকারি অনুমোদন রয়েছে, তথাপি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমার হোটেলে অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার ক্ষতি করেছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

এ ব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. কামাল হোসেন বলেন, বিভিন্ন অভিযোগে ঐ হোটেলে অভিযান চালানো হয়েছে। হোটেল থেকে ১৮ নর-নারীকে গ্রেফতার করে মামলা রুজু শেষে গতকাল শুক্রবার গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।