বান্ধবী ভয়ঙ্করী!

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৩০

শুভ দেবনাথ

ঠিকানাবিহীন

আমার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী মলি। নামটা যেমন মিষ্টি, মেয়েটা দেখতেও তেমনি মিষ্টি। সাধারণত এই জমানায় এরকম মিষ্টি মেয়েদের সিঙ্গেল থাকতে দেখা যায় না। কিন্তু মলি আছে। এমন নয় যে মলির ওপরে কোনো ছেলে ক্রাশ খায় না। অহরহ খায়! তবে নিরাপদ দূরত্বে থেকে। আমার চোখের সামনেই তার ওপরে ক্রাশিত কত কত ছেলেকে মলি ধমক দিয়ে তার থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে চলা ফেরা করতে বলেছে, তার সংখ্যা গুণে শেষ করার মতো নয়। ঘটনাটা গত শীতের। নিজেদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেছে মলি।

মলিদের গ্রামের বাড়ির ডান দিকেই অবস্থা সম্পন্ন মফিজদের বাড়ি। মলির সঙ্গে আমারও কয়েকবার তাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় বুঝেছিলাম, মফিজ জিনিসটা মলির ওপর ক্রাশিত। অবশেষে গত শীতে আমার আন্দাজটা স্বশরীরে সত্যি হয়ে হাজির হলো। মফিজ মলিকে প্রপোজ করল। ভয়ঙ্করী মলি তখন মফিজকে সরাসরি কিছু না বলে তার মোবাইল নম্বরটা নিয়ে চলে এলো। সময়টা ছিল শীতের জেঁকে বসার সময়। তার ওপর এলাকাটা শীতপ্রবণ হওয়ায়। লেপ কম্বল দুটো একসঙ্গে গায়ে জড়িয়েও কাঁপছিল মলি। ঘড়ির কাঁটায় রাত দুইটার ওপরে বাজে। ঠিক তখনই মোবাইল হাতে নিয়ে মফিজের কাছে কল দিল মলি। এত রাতে মলির কল পেয়ে মফিজ ছেলেটা কল রিসিভ করেই বলল, ‘কোনো সমস্যা?’

—না, তবে, তুমি কী আমায় সত্যিই ভালোবাসো?

—একদম, আমার ভালোবাসা এতটা ভরাট যে, সেখানে একটি পিঁপড়ে ঢুকারও সুযোগ পাবে না, ওপাশ থেকে মফিজের উত্তর।

এপাশে দুষ্টু হাসি হেসে মলি বলল, ‘তাহলে আমি যা বলব, তা-ই করতে পারবে?

মফিজ বলল, ‘হুম। বল কী করতে হবে?’

এবার মলি বলল, ‘বেশি কিছু নয়, আমার রুমের জানালার দিকে যে পুকুরটা আছে ওইটার পানিতে এখনই গোসল করে তোমার ভালোবাসার ভরাটত্ব প্রমাণ করতে হবে।’

আমি যতঠুকু জানি মফিজের ছিল শ্বাসকষ্টের সমস্যা। ওই মুহূর্তে যদি মফিজ সত্যিই গোসল করত, তাহলে মলি মফিজকে বিয়ে করার আগেই বিধবা হয়ে যেত। সেই যে মফিজ লাইন কেটে দিল, আর কল রিসিভ করবে কী! এখন পর্যন্ত মলির ত্রিসীমানায় আসেনি।

এই কিছুদিন আগেও একটি ছেলেকে এইরূপ টাস্কি খাওয়ালো মলি। সে ঢাকা শহরের এক টাকাওয়ালার প্রাইভেটভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে। পড়ালেখায় তার কেমন মনোযোগ বলতে পারব না, তবে তার দামি বাইকের পেছনে বসিয়ে শহুরে সুন্দরী তরুণীদের শহর ভ্রমণ করানোয় প্রচুর মনোযোগ। সেই ছেলেটা যখন মলিকে তার সঙ্গে বাইক ভ্রমণের অফার করল, তখন মলি বলল, চলো তাহলে মৌচাক-মালিবাগ রোড দেখে আসি। ওরা চলে গেল মৌচাক-মালিবাগ রোডে, অবশ্য ওটা তখন রোড ছিল না! জলাবদ্ধতার কল্যাণে নদী হয়ে গিয়েছিল। সে বলতেই মলি চলে আসায় ছেলেটা ভাবল মলি পটে গেছে, মানে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে গেছে আর কি। তাই সে প্রেম প্রস্তাব করে বসল। মলি তখন তার দুষ্টু মিষ্টি হাসি হেসে বলল, ‘কতটুকু ভালোবাসো আমায়?’

‘ওই আকাশের সমান,’ আকাশের দিকে আঙুল তাক করে বলল ছেলেটি।

মলি তখন খুব সিরিয়াস ভাব নিয়ে বলল, ‘শুধু বললে হবে না, স্ক্রিনশটের মতো জোড়ালো প্রমাণ চাই।’

উত্তরে ছেলেটি বলল, ‘বেশ, বলো কী প্রমাণ চাও?’

মলি ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসির আভা ফুটিয়ে বলল, ‘এই মুহূর্তে, আমার সামনে, মালিবাগ -মৌচাক নদীর এক লিটার পানি খেয়ে দেখাও তো, এতেই তোমার ভালোবাসা প্রমাণিত হবে।’

তখন ছেলেটি চোখ-মুখ ভরা বিস্ময় নিয়ে, মলিকে ফেলে চলে গেল।

মলি সিএনজি করে বাসায় আসার সময় আমাকে কল করে বিস্তারিত খুলে বলার পর আমি বললাম, ‘সত্যিই! তুই আমার বান্ধবী ভয়ঙ্করী!’