আহাদ আদনান
ঢাকা
v রূপকথার যুগ
এক রাজার ছিল দুই রানি। এই দুই রানির মাঝে ছিল গলায় গলায় ভাব। একজন রান্না করলে আরেকজন লুকিয়ে তাতে এক খাবলা লবণ ছিটিয়ে দিত। কেও আল্পনা আঁকলে আরেকজন সেই রঙে আলগা রং ছিটিয়ে দিত। গোসলের সময় চুলে লাগিয়ে দিত সাদা রং (তখনো চুইংগাম আবিষ্কার হয়নি)। রাজা রানিদ্বয়ের এহেন বন্ধুত্বে যারপরনাই দৌড়ের ওপর থাকত।
প্রশ্ন—
১. বহুবিবাহ পরবর্তী বন্ধুত্বের কুফল বর্ণনা কর।
২. রানিদের হাতে ফেসবুক থাকলে তাদের স্ট্যাটাস কেমন হতে পারত?
৩. ‘মাঝরাতে হাতাহাতি’ নিয়ে একটি টিকা লিখ।
v ব্রিটিশ যুগ
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লর্ড ফোর টুয়েন্টির সঙ্গে বাংলার ক্ষীর জাফরের ছিল বেজায় বন্ধুত্ব। কোনো এক বন্ধু দিবসে লর্ড ক্ষীরের হাতে ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড পরিয়ে দেয়। বিনিময়ে ক্ষীর বন্ধুকে ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স, বাড়ি, টাকা থেকে শুরু করে দেশটাই গিফট করে দিল। পরে যখন লর্ড ক্ষীরের সুন্দরী বউয়ের দিকে হাত বাড়ায়, তখনই লাগে বিপত্তি।
প্রশ্ন—
১. বন্ধুত্বের বিনিময়ে মাজারের সামনে থালা নিয়ে বসে থাকতে ক্ষীর জাফরের কেমন অনুভূতি হয়েছিল।
২. বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে টিকা লিখ।
৩. বানর, বউ, লুঙ্গি আর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, এই তিন জিনিস মাথায় তুলতে নেই, এই বিষয়ে আলোকপাত কর।
v বাংলা সিনেমা :সাদাকালো যুগ
আনোয়ার হোসেন ভালোবাসে কবরীকে। কবরী ভালোবাসে রাজ্জাককে। রাজ্জাক আনোয়ার হোসেনের বন্ধু। আনোয়ার হোসেন বন্ধুর জন্য কবরীকে বাসা থেকে পালাতে সাহায্য করে, কবরীর বাপের চ্যালাদের হাতে পিটুনি খায়, জেলে পর্যন্ত যায়। বিনিময়ে রাজ্জাক বন্ধুকে ভুল বুঝে দূরে চলে যায়।
প্রশ্ন—
১. বন্ধুর মান ভাঙাতে আনোয়ার হোসেন কি পুরনো গান গাইবে নাকি ‘কসম লাগে, মরা মুখ দেখবি’ জাতীয় ডায়লগ দেবে?
২. প্রেম করা ছাড়া একজন চল্লিশ বছর বয়সী কলেজছাত্রের জীবনে আর কী কাজ থাকতে পারে?
৩. বাংলা সিনেমার নায়িকার বাবাদের বন্দুক-রাইফেলের ব্যাবহার নিয়ে টিকা লিখ।
v বাংলা সিনেমা :রঙিন যুগ
বাপ্পারাজ ভালোবাসে শাবনূরকে। আমিন খানও ভালোবাসে শাবনূরকে। বাপ্পারাজ আমিন খানের বন্ধু। বাপ্পারাজ শাবনূরকে বাড়ি থেকে পালিয়ে নিয়ে আসে। বন্ধুকে বলে তাদের একটু সাপোর্ট দিতে। সেই সুযোগে আমিন খান বন্ধুর বউকে নিয়ে কেটে পড়ে।
প্রশ্ন—
১. বাপ্পারাজ জীবনে কয় শ ছবিতে এভাবে ছ্যাঁকা খেয়েছে?
২. ‘তোর মতো বন্ধু থাকলে শত্রুর দরকার নেই’ এই সংলাপের ভাব সম্প্রসারণ কর।
৩. নায়িকার চরিত্রের সতীত্ব বজায় রাখতে মাথায় বাড়ি মেরে স্মৃতি ভুলিয়ে দেওয়ার তাত্পর্য ব্যাখ্যা কর।
v পলিটিক্যাল বন্ধুত্ব
পটল মিয়া জাম-জনতা পার্টির ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত যুগ্ম সম্পাদক। পার্টির মাখন মিয়ার সঙ্গে তার ব্যাপক বন্ধুত্ব। দুই বন্ধু মিলে ঠিক করে প্রতিপক্ষ কাঁঠাল-জনতা পার্টির সমাবেশে ককটেল মেরে পণ্ড করে দিবে। পরেরদিন মাখন ককটেলসহ পুলিশের হাতে আটক হয়। আর পটলকে দেখা যায় কাঁঠাল-জনতা পার্টির অতিরিক্ত যুগ্ম সম্পাদক পদে।
প্রশ্ন—
১. রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু কি কোনোদিন ছিল?
২. ‘ভারপ্রাপ্তের’ ভার খসানোর পর পটলের অনুভূতি ব্যাখ্যা কর।
৩. টস করার সময় বাতাসে ভাসমান মুদ্রা, আর রাজনীতিতে বন্ধুর চরিত্র, কোনটি দ্রুত চেহারা পাল্টায়?
v এবং ফেসবুক বন্ধু
আবুল খাওয়া থেকে টয়লেট সবসময় সেলফি তুলে। বাসার বুয়ার পেট খারাপ থেকে শুরু করে ট্রাম্পের হেয়ার স্টাইল নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়। তার ফেবু বন্ধু কাবুল সব ছবি, স্ট্যাটাস স্ক্রিনশট মেরে রাখে। এক বন্ধু দিবসে আবুল আবিষ্কার করে তার আইডি হ্যাক হয়ে গেছে আর তার বিভিন্ন সময়ের স্ক্রিনশট বিকৃত হয়ে শোভা পাচ্ছে।
প্রশ্ন—
১. সাইবার আইনের শাস্তি সম্পর্কে টিকা লিখ।
২. ফেবু আর বানরের গলায় মুক্তার হার নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা কর।
৩. ফেসবুকের লাইক, শেয়ার, স্ট্যাটাস দিয়ে আজ পর্যন্ত তোমার কয় পয়সা লাভ হয়েছে, ব্যাখ্যা কর।
