ফল

ড্রাগন

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৪৮

 

দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে ড্রাগন ফলের জন্ম। প্রায় এক শতাব্দী আগে থেকে শুরু হয় ড্রাগন ফলের চাষ এবং প্রসার। বাংলাদেশের ফুলপুরের মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী। প্রায় সব ধরনের উঁচু মাটিতেই ড্রাগন ফলের চাষ করা যায়। তবে পাহাড়ের মাটি এই ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এপ্রিল-মে মাসে ফুল আসে, ২০-২৫ দিনে ফুল ফলে পরিণত হয়। অক্টোবর-নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফুল ফোটা ও ফল ধরা অব্যাহত থাকে।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা বলছেন, ড্রাগন ফল চাষ খুব সহজ। বর্তমানে ভিয়েতনামে এই ফল বেশি চাষ হচ্ছে। ভিয়েতনাম ছাড়াও তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, চীন, ইসরাইল, অস্ট্রেলিয়াতেও ড্রাগন ফলের চাষ হয়। এছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকায় দিন দিন এ ফলের চাহিদা বাড়ছে।  সেইসঙ্গে বাংলাদেশও ড্রাগন ফল উত্পাদনকারী দেশ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করতে এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ জার্ম প্লাজম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম এ রহিম ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ড্রাগন ফলের প্রবর্তন করেন। তিনি এ ফলের জাত নিয়ে আসেন থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে। সেসব গাছ এখন দিব্যি ফল দিচ্ছে। এরই মধ্যে এ ফলের বাণিজ্যিক চাষের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। বাউ ড্রাগন ফল-১ (সাদা) ও বাউ ড্রাগন ফল-২ (লাল)—এ দুটি জাত বাংলাদেশে চাষ হচ্ছে। বীজ ও কাটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন ফলের চাষ করা যায়। তবে বীজের গাছে মাতৃগাছের মতো ফলের গুণাগুণ নাও থাকতে পারে। এতে ফল ধরতে বেশি সময় লাগে। ড্রাগন চাষের জন্য কাটিংয়ের চারাই বেশি উপযোগী। কাটিং থেকে উত্পাদিত গাছে ফল ধরতে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। উপযুক্ত যত্ন নিলে একরপ্রতি ছয় থেকে সাত টন ফলন পাওয়া যায়। ড্রাগন ফলের চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় হলো জুন-জুলাই মাস। আমাদের দেশে মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়। শীতকালে এই গাছ ফুল দেওয়া বন্ধ করে দেয়।