‘শিশু-কিশোররাই ডিজিটাল বিপ্লবের সৈনিক’

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫১

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

 

আগামী দিনগুলো ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের দিন। শিশু-কিশোরদের আগামী দিনের ডিজিটাল বিপ্লবের উপযোগী সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলতে  শিক্ষক অভিভাবসহ শিশু-কিশোর সংগঠনসমূহকে আরো সচেষ্ট হতে হবে। ডিজিটাল বিপ্লবের শক্তিশালী হাতিয়ার হচ্ছে মেধা। বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা খুবই মেধাবি। তারা একমাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন রোবট বানাতে পারে।

সম্প্রতি ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে খেলাঘর জাতীয় সম্মেলন ২০১৯-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এসব কথা বলেন। সম্মেলনটির উদ্বোধন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান ।

খেলাঘর জাতীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অধ্যাপক পান্না কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান এবং বরগুনার ৭ বছরের শিশু  মনিরা বক্তৃতা করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী প্রাচীন প্রতিষ্ঠান খেলাঘরের স্বাধীনতার পূর্বে অসাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ভূমিকাসহ নানা ক্ষেত্রে খেলাঘরের  ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, খেলাঘরকে আবারও জাগ্রত হতে হবে। বঙ্গবন্ধু যে জাতিসত্তার জন্ম দিয়েছেন তা টিকিয়ে রাখতে আগামী দিনগুলোতেও খেলাঘরকে কাজ করতে হবে।

মন্ত্রী ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের হাতিয়ার হিসেবে দেশের নতুন প্রজন্মকে অত্যন্ত মেধাবি উল্লেখ করে বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রচলিত শিক্ষাকে ডিজিটাল রূপান্তর শুরু করেছে। ২০১৮ সাল থেকে আমরা শিশু-কিশোরদের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শুরু করেছি। আমাদের সন্তানরা এখন এক মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে রোবট বানাতে পারে। ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে দেশে অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছেলেমেয়েদের জন্য ডিজিটাল শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন,  ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে ডিজিটাল শিক্ষা অপরিহার্য। অনেক অভিভাবক মনে করেন, ছেলেমেয়েদের কম্পিউটার স্পর্শ করতে  দেওয়াই উচিত না। এই ভ্রান্ত ধারণার বৃত্ত থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি ইন্টারনেট নিরাপদ রাখতে ইতিমধ্যে সরকার গৃহীত উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ২৪ হাজার পর্নো সাইট এবং ২ হাজার জুয়ার সাইট বন্ধ করেছি। নারী ও  শিশুদের জন্য ক্ষতিকর সাইটসমূহ প্রতিনিয়ত বন্ধ করা হচ্ছে।

মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি, শিক্ষার হার, নারী উন্নয়নসহ উন্নয়নের প্রতিটি সূচকে গত ১০ বছরের সফলতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাদের এগিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা বিশ্বে  এগিয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে আসছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে যে অশুভ শক্তি বাংলাদেশকে ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল সেই অপশক্তির এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।