মানব আকৃতির রোবট বানালেন কুমিল্লার দুই শিক্ষার্থী

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫১

মো. লুত্ফুর রহমান

 

হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করে তাক লাগিয়েছে কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। এটি একটি মানবাকৃতির রোবট। এর চোখে ক্যামেরা লাগানো আছে। অন্ধকারেও এটি দেখতে পারে। রোবটটি ব্যবহারকারীর কথা শুনতে পারে এবং উত্তরও দিতে পারে। এটি কথা বলার পাশাপাশি ছবি প্রদর্শন করতে পারে। এ ছাড়া এই রোবট ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবহারকারীকে তা সরবরাহ করতে পারে।

কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আশরাফুর রহমান মিনহাজ ও মাহমুদা আফরিন মানবাকৃতির এই রোবটটি বানিয়েছেন। তাদের নামের আদ্যক্ষর নিয়ে রোবটটির নাম দেওয়া হয়েছে মিআ-১। এই রোবট তৈরিতে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন সিএসই বিভাগের শিক্ষক মোজাম্মেল হক ও মাসুম বকাউল। সম্প্রতি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রোবটের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লার নারীনেত্রী দিলনাঁশি মোহসেন ও বিএনসিসি ময়নামতি রেজিমেন্টের কমান্ডার সালাহউদ্দিন।

দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে আশরাফুর রহমান মিনহাজের বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। মাহমুদা আফরিনের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর গ্রামে। তিনি সিএসই তৃতীয় বর্ষের তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

আশরাফুর রহমান মিনহাজ ও মাহমুদা আফরিন জানান, দুই মাস সময় লেগেছে এই রোবট তৈরি করতে। এ জন্য ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। এর ডিজাইনও ইউনিক। যা মানুষের মতোই দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি কম্পিউটার ভিশন টেকনোলজি ব্যবহার করে অবজেক্ট ডিটেকশন অ্যান্ড রিকগনিশন ও মোশন সেন্স করতে পারে। রোবটের বুকে লাগানো এলসিডিতে আছে গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (জিইউআই)। এই রোবট পরিচালনার জন্য আলাদা করে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে হয় না।  তাদের দাবি, এটি দেশের প্রথম একটি অগ্রগামী রোবট। এটিকে ‘বাংলাদেশের প্রথম ওপেন সোর্স হিউম্যানয়েড রোবট’ বলা যেতে পারে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম ইন্টারনেট ব্যবহার করে নানা জিনিস উদ্ভাবন করছে। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশেরই একটি অংশ।’ ভিসি তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমি এখানে যোগদানের পর ভিন্ন কিছু করতে চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন ধারণা নিয়ে আসে। আমরা তাদের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা করার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চাই। প্রযুক্তিজ্ঞান থাকলে যে কেউ উন্নতি করতে পারবে। ছেলেমেয়েরা রোবট তৈরি করে নিজেদের মেধা ও প্রজ্ঞাকে জানান দিয়েছে।’