সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল নেমেছিল দর্শকের ঢল। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেল থেকেই সাগরিকার রাস্তায় হাজারো মানুষের ভিড়, যেখানে যানবাহনের চলাচলই স্থবির হয়ে পড়েছিল লোকসমাগমের কারণে। স্টেডিয়ামমুখী জনতার স্রোত নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।
g স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে
শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে বৃষ্টি হয়েছে। সকালে থেমে গেলেও অনেকের মনে সংশয় ছিল সন্ধ্যার ম্যাচ নিয়ে। দিনভর রোদও খুব তেঁতে উঠতে দেখা যায়নি।
চট্টলার দর্শকদের মনে ম্যাচ নিয়ে উচাটানের কারণটা অজানা নয়। গতকাল ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন। সন্ধ্যায় সাগরিকায় বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচ। ত্রিদেশীয় সিরিজে এই দুই দলের লড়াই এখন বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ফাইনালের আগে নিজেদের পরখ করে নেওয়ার সুযোগ দুই দলের সামনে। ছুটির দিনে সাগরিকায় বসে টি-টোয়েন্টির বিনোদন উপভোগের পরিকল্পনা হয়তো বন্দরনগরীর অনেকেই করেছেন। আকাশে মেঘের আনাগোনা কিছুটা শঙ্কা তৈরি করেছিল তাদের মনে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসও সকালে দেখাচ্ছিল রাতে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে চট্টগ্রামে।
সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল নেমেছিল দর্শকের ঢল। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেল থেকেই সাগরিকার রাস্তায় হাজারো মানুষের ভিড়। যেখানে যানবাহনের চলাচলই স্থবির হয়ে পড়েছিল লোক সমাগমের কারণে। স্টেডিয়ামমুখী জনতার স্রোত নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
গতকালকের বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচ নিয়ে চট্টগ্রামের ক্রিকেটপ্রেমীদের উন্মাদনা বেশ স্বাভাবিকই। কারণ ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে চট্টগ্রামের মাটিতে পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ। এর আগে ২০১৪ আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপে শেষবার এই শহরে আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে সাগরিকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৭টি ম্যাচ। সবকটিই ২০১৪ সালে।
ঐ বছর বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুইটি, বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের পাঁচটি ম্যাচ হয়েছিল এই মাঠে। তারপর বিশ্বকাপের মূল পর্বের ১০টি ম্যাচও এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর নিয়মিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচ উপভোগের স্বাদ পায়নি বন্দরনগরীর দর্শকরা। ত্রিদেশীয় সিরিজের মাধ্যমে টি-২০ ফিরলো চট্টগ্রামে।
তাছাড়া গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচগুলোর বেশিরভাগই ঢাকা ও সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের বাইরে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হয়েছিল অনেকগুলো ম্যাচ।
বাংলাদেশ দলের প্রতিটি হোম সিরিজে চট্টগ্রামে কম-বেশি খেলা হয়ে থাকে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাগরিকায়। অপেক্ষাকৃত খর্বশক্তির জিম্বাবুয়েকে ৩৯ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেই ম্যাচ তেমন টানেনি স্থানীয় দর্শকদের।
গতকাল আফগানদের বিরুদ্ধে ম্যাচটা ছুটির দিনে বলে, দর্শকরাও সুযোগ হাতছাড়া করেননি। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা ছুটেছেন সাগরিকার গ্যালারির পানে। সাকিবদের সমর্থনে গলা ফাটাতে অনেকেই বাংলাদেশ দলের জার্সি গায়ে এসেছেন। বলা বাহুল্য, এই সিরিজে এটিই চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচ।
ক্রিকেটের খুদে সংস্করণে বাংলাদেশ-আফগানদের লড়াই চট্টলার দর্শকদের মন ভরাতে পেরেছে কি না, তা এতক্ষণে জেনে গেছেন পাঠক। তবে গতকাল চট্টগ্রামের ক্রিকেটমোদীদের আগ্রহ-উদ্দীপনায় স্পষ্ট ছিল, টি-২০র বিনোদনের জন্য তৃষিত ছিল তাদের হূদয়।
