সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে বিন্দুমাত্র ছাড় পাচ্ছেন না তারা। কুষ্টিয়ার সদর উপজেলায় দুই যুবলীগ নেতা এবং গাজীপুরের শ্রীপুরে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের তিন নেতা-কর্মীকে এই অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, চাঁদাবাজি মামলায় শুক্রবার রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু (৩৫) ও কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান সুজনকে (৪০) গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানায়, এদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানাধীন হাসানবাগ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিজুকে ও শহরের হরিশংকরপুরের বাড়ি থেকে সুজনকে ধরা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী আলামিন জোয়ার্দার বাদী হয়ে ২০ সেপ্টম্বর রাতে যুবলীগের আটক দুই জনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মিজু ও সুজনকে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত জানান, অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।
শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, শ্রীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে শুক্রবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। আটককৃতরা হলেন— উপজেলার যুগীরছিট গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে কাওরাইদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও যুগীরসিট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাই (৫৫), নয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল বাতেন মন্ডলের ছেলে জেলা যুবলীগের সদস্য কামরুল হাসান মন্ডল (৪০) ও যুগীরসিট গ্রামের আব্দুল মজিদ সরকারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে টাইগার জাহাঙ্গীর (৩৫)। কামরুল ইসলাম মন্ডল সদ্য সমাপ্ত কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আফজাল হোসেন জানান, আটকৃতরা স্থানীয় ব্যবসায়ী আরিফ হোসেনের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদাবাজির ৩ লাখ টাকা লেনদেনের পর আরো টাকার জন্য হুমকি প্রদান করতে থাকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইন্সপেক্টর মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে একটি দল শুক্রবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। আসামিরা সংঘবদ্ধ চাঁদা আদায় চক্রের সক্রিয় সদস্য।
