আফগানিস্তানকে কম রানে আটকে রেখে প্রাথমিক কাজটা করেছিলেন বোলাররা। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় এই গন্তব্য পাড়ি দিতে গিয়েও বারবার হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশ। সহজ ম্যাচটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জয়ের হাসি নিয়েই মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল ত্রিদেশীয় সিরিজের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৪ উইকেটে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ।
টানা চার ম্যাচে হারের পর আফগান বাধা টপকাতে সমর্থ হলো বাংলাদেশ। জয়ের স্বস্তি নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে গেল সাকিব বাহিনী। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
সাগরিকায় গতকাল টি-২০ ইতিহাসের (আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া) চতুর্থ বোলার হিসেবে ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সাকিব। পরে ব্যাটিংয়েও দলের ত্রাতার ভূমিকায় ছিলেন নবম হাফ সেঞ্চুরি করা এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ৭০ ও বোলিংয়ে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও হন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
টসে হেরে আগে ব্যাট করে আফগানিস্তান ৭ উইকেটে ১৩৮ রান তুলেছিল। জবাবে ১৯ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৯ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।
রান তাড়ার মিশনে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ১২ রানেই দুই ওপেনার লিটন দাস (৪) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৫) ফিরে যান সাজঘরে। তৃতীয় উইকেটে সাকিব-মুশফিক ৫৮ রানের জুটি গড়েন। শুরু থেকেই নড়বড়ে থাকা মুশফিক একবার জীবন পেয়েও উইকেটে থিতু হতে পারেননি। ২৬ রান করে আউট হন তিনি।
বিদ্যুত্ বিভ্রাটে একটি ফ্লাডলাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাগরিকায় আট মিনিট খেলায় বিরতি পড়েছিল। হ্যামস্ট্রিংয়ে পড়ার পরও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠে ফিরেই আফগান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে (৬) এলবির ফাঁদে ফেলেন। সাব্বির (১), আফিফ (২) আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দিলে ১০৪ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
একপ্রান্ত আগলে ক্যারিয়ারের নবম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব। পরে মোসাদ্দেককে নিয়ে ৩৮ রানের জুটি গড়ে বাকি পথটুকু পাড়ি দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শেষ ১৮ বলে দরকার ছিল ২৭ রান। রশিদ খানের করা ১৮তম ওভারেই আসে ১৮ রান। সাকিব একটি চার ও একটি ছয়, মোসাদ্দেক একটি চার মারেন। ১৯তম ওভারে ৯ রান তুলে জয় নিশ্চিত করেন তারা। সাকিব ৪৫ বলে অপরাজিত ৭৯ রান (৮ চার, ১ ছয়), মোসাদ্দেক ১২ বলে অপরাজিত ১৯ রান করেন। আফগানদের পক্ষে নাভিন উল হক, রশিদ খান দুটি করে, মুজিব-করিম জানাত একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে শফিউলের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজের তোলা সহজ ক্যাচ ফেলেন মাহমুদউল্লাহ। তারপর ব্যাট হাতে তোপ দাগাতে শুরু করেন আফগান ওপেনাররা। হজরতউল্লাহ জাজাই-গুরবাজের ৭৫ রানের জুটিতে ছুঁটছিল আফগানদের রানের চাকা। ইনিংসের দশম ওভারে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন আফিফ। তার জোড়া শিকারে ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ।
তৃতীয় বলে জাজাই ক্যাচ দেন মুস্তাফিজের হাতে। পঞ্চম বলে আসগর আফগান (০) বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন। জাজাই ৩৫ বলে ৪৭ রান (৬ চার, ২ ছয়) করেন। পরের ওভারে মুস্তাফিজের বলে কট এন্ড বোল্ড হন গুরবাজ। তিনি ২৯ রান করেন। তারপরই আফগানরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায়। সাইফউদ্দিনের দুরন্ত ইয়র্কারে বোল্ড হন নাজিবউল্লাহ জাদরান (১৪)। শেষ দিকে শফিকউল্লাহ অপরাজিত ২৩, রশিদ খান অপরাজিত ১১ রান করেন। বাংলাদেশের আফিফ দুটি, সাকিব, সাইফউদ্দিন, শফিউল, মুস্তাফিজ একটি করে উইকেট নেন।
