বিডিআর বিদ্রোহ

বিস্ফোরক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় ৩ শতাধিক আসামির বন্দিজীবন শেষ হচ্ছে না

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:২৬

বিডিআর বিদ্রোহের হত্যা মামলা থেকে খালাস পেলেও বিস্ফোরক মামলার কারণে মুক্তি মিলছে না বিডিআরের সাবেক তিন শতাধিক সদস্যের। এ কারণে বছরের পর বছর জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে তাদের। অনেকে আবার জেলের মধ্যে অসুস্থ হয়ে কঠিন জীবন পার করছেন। হত্যা মামলার মতো বিস্ফোরক মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

গতকাল শনিবার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কারাবন্দি বিডিআর সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিডিআরের সাবেক সদস্য সফিকুর রহমানের পরিবারের পক্ষে কামরুল হোসেন, জোবায়েরের পক্ষে রুনা, ইমতিয়াজের পক্ষে তোফাজ্জল, সবুজ মিয়ার পক্ষে রাহিমা, আবদুল করিমের পক্ষে শাহানা, দারুল ইসলামের পক্ষে সবুজ, এরশাদের পক্ষে আবদুল কাদের, আলী আকবরের পক্ষে রেহানা, নয়ন ইসলামের পক্ষে চামেলী, লুত্ফর রহমানের পক্ষে জাহানারা, শহীদের পক্ষে রাহাত, আরিফের পক্ষে রাকিব, রশিদের পক্ষে শাকিল, আসাদুজ্জামানের পক্ষে সাঈদ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের কারো স্বামী, কারো বাবা, কারো ছেলে, কারো ভাই বিডিআরে কর্মরত ছিলেন। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের হয়। যার একটি বিডিআরের প্রচলিত আইনে শেষ হয়। এতে অনেকেরই সাজাভোগ শেষ হয়ে গেছে। এরপর বিডিআর এর হত্যা মামলা থেকেও খালাস পেয়েছেন ২৭৮ জন সদস্য। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস দুই বছর ১০ মাসের মধ্যে হত্যা মামলাটির বিচারকার্য শেষ হলেও গত আট বছরেও বিস্ফোরক মামলাটি শেষ হচ্ছে না। যার কারণে বছরের পর বছর  জেলে পড়ে আছেন হত্যা মামলা থেকে মুক্তি পাওয়া সদস্যরা।

তারা বলেন, ২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দুটির চার্জ গঠন করা হয়। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলার রায় দেওয়া হলেও বিস্ফোরক মামলাটি চলমান রয়েছে। গত আট বছরে বিস্ফোরক মামলায় মাত্র ১২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার সাক্ষী একই।  বিস্ফোরক মামলায় জামিন প্রদানে আইনগত বাধা না থাকলেও হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্তদের একজনকেও জামিন দেওয়া হয়নি।

এদিকে জেলের মধ্যে থেকে অনেকে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এটা ভেবে যে, তারা আর কোনোদিন বাইরের আলো বাতাস দেখতে পাবে কি না? এদিকে বাইরে থাকা পরিবারের সদস্যরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সব কিছু থেকেও তাদের এখন কিছুই নেই। বাবা থাকা সত্ত্বেও সন্তানরা এতিম, স্বামী থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীরা যেন স্বামীহারা হয়ে ঘুরছেন। ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করে বলেন, আমরা বর্তমান সরকার ও আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। বিস্ফোরক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে দোষীদের শাস্তি দিয়ে নির্দোষদের মুক্তি দিন।