আর তিন দিন পরেই পৌষ মাস শুরু হবে। শীতের প্রকোপ থেকে নিস্তার পেতে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে কম্বল ও লেপ কেনার ধুম। অনেকেই বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাত থেকে তাদের রুচি অনুযায়ী কম্বল ও লেপ সংগ্রহ করছেন। কেউবা লেপের দোকানে অর্ডার দিয়ে তৈরি করে নিচ্ছেন লেপ। রাতে ঘুমানোর সময় শীত থেকে পরিত্রাণের প্রসঙ্গ এলেই সবার ভাবনায় আসে কম্বল ও লেপের কথা। বর্তমানে স্টাইলিশ হিসেবে বিদেশি কম্বলই সবচেয়ে জনপ্রিয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা মোটা আকর্ষণীয় রং ও ডিজাইনের সোলারন কম্বল। এটি বাজারে সবচেয়ে দামি কম্বল। এগুলো ডাবল কম্বল ২২০-২৪০ সেন্টিমিটার ৫ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সিঙ্গেল কম্বল ৩ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তাছাড়া চীন থেকে আমদানি করা কম্বলগুলোতে রাজধানীর মার্কেটগুলো সয়লাব হয়ে আছে। এগুলো বিভিন্ন নামে বিক্রি করা হয়। বিক্রেতারা জানান, মূল কম্বল আসে সাধারণত চীন থেকেই। ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ডাবল কম্বল এবং ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় সিঙ্গেল কম্বল পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন ব্যান্ডের মধ্যে চীন থেকে আমদানি করা কম্বলগুলো হলো—বাইট, উনিস্টার, কিংস্টার, গোল্ডেন বেয়ার, গোল্ডেন টাইগার, ডলফিন, নোভা, রয়েল শিপ, সগো, ক্যাঙ্গারো, অ্যারাবিয়ান, ডায়মন্ড কিং, টেন্ডার টাচ, ব্রাইট, প্রিন্স, সুলতান, গোল্ডেন ড্রিম। বিক্রেতারা জানান, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কম্বলের প্রচণ্ড চাহিদা থাকে। উচ্চ মধ্যবিত্ত, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা বেশি কেনাকাটা করছে। নবাবপুর পাইকারী ব্যবসায়ী জানান, ঢাকার তুলনায় গ্রামে বেশি বিক্রি হয়। উত্তর ও পশ্চিমবঙ্গে বেশি চাহিদা কম্বলের। বায়তুল মোকাররমের এক ব্যবসায়ী বলেন, কম্বলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কম্বলের চাহিদা বাড়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, কম্বল পাতলা হলেও খুব গরম, সহজে বহন করা যায়। তাছাড়া কম্বল ময়লা হলে ড্রাইওয়াশ করা যায়। যে কারণে ধীরে ধীরে লেপের ব্যবহার কমে আসছে। ১টা কম্বল বিক্রি করলে ১০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। এদিকে নিম্নবিত্তদের জন্য ফুটপাতে দেশে তৈরি কম্বল যথেষ্ট জনপ্রিয়। কম মূল্যে অধিক বিক্রি হয় বলে নিউমার্কেটের ফুটপাতের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, দেশি পাতলা কম্বল ১৫০-৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া ফুটপাতেও বিদেশি (চায়না) কম্বল পাওয়া যায়। ফুটপাতের আরেক ব্যবসায়ী জানান, এখানে কম দামে বিদেশি কম্বল বিক্রি হয়। সবচেয়ে দামি সেলোয়ার কম্বল মাত্র ৪ হাজার টাকা এবং চায়না বিডি ব্র্যান্ডের কম্বল ২০০০-৪০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এখানে নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতা বেশি আসে। এদিকে শীতের আগমনে লেপ তোষকের দোকানের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। তাক তাক করে সাজিয়ে এমনভাবে লেপ-তোষক রয়েছে দোকানই দেখা যায় না। মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের লেপ-তোষকের দোকানের এক মালিক জানালেন, কারপাশ তুলা দিয়ে তৈরি ৪ হাত বাই ৫ হাত ডাবল লেপ বারশত টাকায় তৈরি করা যায়। সিঙ্গেল লেপ ৯৫০ টাকা এবং গার্মেন্টসের সাদা তুলা দিয়ে তৈরি ৪ হাত বাই ৫ হাত ডাবল লেপ ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া সিঙ্গেল ৩ হাত বাই ৫ হাত ৭৫০ টাকায় তৈরি হয়। বর্তমানে কম্বলের চাহিদা বেশি বলে লেপের বেচাবিক্রি কম।
