সাকিবের মতে এটা বড়ো জয়

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৩৯

স্পোর্টস রিপোর্টার

বিশ্বকাপ থেকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ফিরেছিলেন সাকিব আল হাসান। তার পারফরম্যান্স তৈরি করেছিলো বাড়তি প্রত্যাশা। বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে সেরা পারফরমার ছিলেন বাংলাদেশি এই অলরাউন্ডার। কিন্তু ঘরের মাটিতে প্রথম অভিযানে একদমই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছিলেন না। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ছিলেন নিষ্প্রভ। এরপর টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের প্রথম তিন ম্যাচেও ব্যাটে-বলে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। অবশেষে জ্বলে উঠলেন। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানকে পাঁচ বছর পর টি-টোয়েন্টিতে হারালো বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় এমনিতে খুব বড়ো উত্সবের কারণ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এই দলটির বিপক্ষে সম্প্রতি একটার পর একটা পরাজয় বাংলাদেশকে পেছন পায়ে ঠেলে দিচ্ছিল। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তান বাংলাদেশের কাছে অপরাজেয় হয়ে উঠেছিল। অবশেষে সেই আফগানিস্তানকে হারানোটাকে তাই বড়ো জয় বলেই মনে করছেন সাকিব।

নিজেদের টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাংলাদেশের অধিনায়ক বলছিলেন, ‘বড়ো জয় এটি। গত কয়েক মাসের পারফরম্যান্স যদি বিবেচনা করেন, টি-টোয়েন্টিতে আমরা মোটেও ভালো করতে পারছিলাম না। আমাদের উন্নতি করা খুব জরুরি ছিল। এটি নিয়ে কাজ করছিলাম আমরা।’

আগামী মঙ্গলবার ফাইনালে আবার এই আফগানিস্তানের বিপক্ষেই খেলতে হবে বাংলাদেশকে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে আফগান স্পিনারদের আরেকটু বেশি সহায়তা পাওয়ার কথা। চ্যালেঞ্জটি তাই হবে আরো কঠিন। তবে এই জয় থেকেই বিশ্বাস পাচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘এই জয় আমাদের অনেক অনুপ্রেরণা জোগাবে, ফাইনালের জন্য আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। মিরপুরে কন্ডিশন যদিও আলাদা হবে। আফগানিস্তানকে আবারও হারাতে নিজেদের সেরা চেহারায় থাকতে হবে আমাদের।’

সাকিবের নিজের জন্যও এই ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অনেকে মনে করছিলেন, তিনি বোধহয় ফর্মে নেই। তবে সাকিব বলছিলেন, তিনি টের পাচ্ছিলেন, ফর্মেই আছেন। কেবল এরকম একটা ইনিংস খেলা দরকার ছিল, ‘রান পাচ্ছিলাম না। কিন্তু আমার কখনোই মনে হয়নি যে আমি ফর্মে নেই। জানতাম, উইকেটে কিছু সময় কাটালেই চলবে। সেটিও ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার। আজকে কাউকে না কাউকে ইনিংস টেনে নিতে হতো। সৌভাগ্যবশত, দলের জন্য কাজটি আমি করতে পেরেছি।’

সাকিব পেরেছেন বলেই জিততে পেরেছে বাংলাদেশ। নইলে মাঝারি রান তাড়ায়ও দল হোঁচট প্রায় খেয়েই বসেছিল। দুই ওপেনার ভালো করেননি। পরে ৫৮ রানের জুটি গড়লেও মুশফিকুর রহিম পারেননি ইনিংস লম্বা করতে। মিডল অর্ডারে কেউ পারেননি অধিনায়ককে সঙ্গ দিতে। সাকিব একাই বলতে গেলে এগিয়ে নিয়েছেন দলকে। শেষদিকে অবশ্য ১৯ বলে ৩৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে সঙ্গী পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেনকে।

সাকিব জানালেন, এই ইনিংসে তিনি টিকে থাকতে ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ,‘টুর্নামেন্ট জুড়েই আমাদের বোলিং দারুণ হয়েছে, ফিল্ডাররা সহায়তা করেছে। কিন্তু ব্যাটিংই বারবার দলকে ভুগিয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে সবাই একসঙ্গে রান করবে না। কিন্তু যেদিন যে রান করবে, তাকে দলের জন্য শেষ পর্যন্ত টিকতে হবে। চেষ্টা করেছি সেটি করতে।’