স্পোর্টস রিপোর্টার
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট, এমনকি এশিয়া কাপেরও ফাইনাল খেলাটা বাংলাদেশ অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে। সে তুলনায় শেষ সাফল্য খুব কম। কার্যত বাংলাদেশ ফাইনাল খেলে প্রথম ট্রফি জিতেছে এই বিশ্বকাপের ক দিন আগে। তবে এবার ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আগে মোসাদ্দেক হোসেন বলছেন, তারা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
ফাইনালের আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়টাই বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী করেছে বলে মোসাদ্দেক বলছিলেন, ‘ফাইনালের আগে এ ধরনের ম্যাচ জেতা যে কোনো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। একাদশে যারা ছিল, যারা বাইরে ছিল কিংবা কোচিং স্টাফ যারা আছে তারা প্রত্যেকেই এখন বিশ্বাস রাখবে যে, আমরা ফাইনালে ভালো কিছু করতে পারব।’
তবে এই অলরাউন্ডার বলছিলেন, টানা পাঁচটা ম্যাচ জিতে এলেও ফাইনাল একটা আলাদা চাপের ব্যাপার, ‘আসলে ফাইনাল কিন্তু ফাইনালই। যদি আপনি পাঁচটি ম্যাচও জেতেন এটি ফাইনাল। ফাইনালে যে কোনো কিছুই হতে পারে। আমি মনে করি যে এদিক থেকে আমরা একটু আত্মবিশ্বাসী যে একটি ম্যাচ বেশি জেতা আছে। আমি সেদিক থেকে মনে করি যে এখন যে ওয়েতে আমরা খেলছি আমাদের এখানেই থাকা উচিত। এর বাইরে কিছু চিন্তা না করাই ভালো।’
মোসাদ্দেক মনে করেন, ফাইনালে ভালো ফলাফল পেতে গেলে যারা শুরু পাবে, তাদের ভালো করতে হবে। কারণ, সবাই এক ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারবে না, ‘টি-২০ তে সবাই প্রতিদিন ভালো খেলবে না এবং চার-পাঁচ জন ভালো খেলবে না। হয়তো দুই-তিন জন ভালো খেলবে। দুই-তিন জন ভালো খেললেই কিন্তু একটি ম্যাচ জেতা যায়। আমি মনে করি সবার অবদান রাখা উচিত। একই সঙ্গে হয়তো চাইলেই সবসময় ভালো খেলা যায় না। যারা ভালো খেলছে তাদের ধরে রাখা উচিত এবং যারা দুই এক ম্যাচে রান করেনি তারা অবশ্যই ফাইনালে ভালো করবে ইনশাল্লাহ।’
বাংলাদেশের জন্য একটা ভালো খবর হতে পারে—ফাইনাল নাও খেলতে পারেন রশিদ খান। কিন্তু মোসাদ্দেক বলছেন, এ নিয়ে তারা বিশেষ ভাবছেন না, ‘ও (রশিদ) চোট পেয়েছিল, দ্বিতীয় বারে এসে কিন্তু উইকেটও নিয়েছে। হয়তো ইনজুরিতে না থাকলে আরেকটু ভালো বোলিং করতে পারত। আসলে এটা ক্রিকেট খেলা। একটা ওভারে আমাদের চড়াও হতেই হতো। তাই আমরাও ওদিকে (রান) চোখ রেখেছি। সে ইজুরিতে ছিল কিনা আমরা খেয়াল করিনি।’
রশিদকে নিয়ে না ভাবলেও মোসাদ্দেক বলছেন, এই গ্রুপ পর্বের জয় দিয়ে তারা অন্তত বুঝতে পেরেছেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিততে গেলে কী করতে হবে, ‘আমরা এখন বুঝতে পারছি যে ওদের সঙ্গে কীভাবে খেলতে হবে। আমার মনে হয় সেটা আমরা ভালোভাবে ব্যবহার করেছি। শেষ ম্যাচে ওদের (জিম্বাবুয়ের) সঙ্গে জিতেছি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা ফাইনালে ভালো করব।’
সব মিলিয়ে এই জয়টা তাদের আত্মবিশ্বাসী করবে বলেই এই অলরাউন্ডারের ধারণা, ‘জয় সব সময়ই আত্মবিশ্বাস জোগায়। আমর একটা মোমেন্টাম পেয়েছি। ওদের সঙ্গে কীভাবে খেলতে হবে। আগেই বলেছিলাম, ক্যালকুলেটিভ খেলতে হবে। সেটা করতে পেরেছি। আশা করিও ফাইনালেও ধরে রাখতে পারব।’
তবে এই এক জয়ে বাংলাদেশ খুব তৃপ্ত হয়ে গেছে, তা নয়, ‘আগে হেরেছি বলে আমরা মাটিতে নেমে যাইনি, আবার এখন জিতেছি বলে যে আকাশে উড়ছি তেমনটা নয়। প্রক্রিয়া যেটা করেছি সেটাই ধরে রাখছি। ফাইনালে সেই ধারা ধরে রাখতে পারলে ভালো হবে।’
