কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাতায়াতে ভোগান্তি কমাতে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার নদীর উপর চারটি ছয় লেনের সেতু নির্মাণ প্রকল্প এগিয়ে চলছে। সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পটিয়ার ইন্দ্রপুল, চন্দনাইশের বরগুনী, দোহাজারী শঙ্খ ও চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর ওপর পুরোনো সেতুর স্থলে এসব সেতু তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি সেতু বাস্তবায়নের পর কক্সবাজার-চট্টগ্রাম-টেকনাফ ২৩৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পও হাতে নিয়েছে সরকার।
জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ক্রস বর্ডার নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (সিবিআরএনআইপি) প্যাকেজ-সি-এর আওতায় চারটি ছোটো থেকে মাঝারি আকারের সেতু ও সংযুক্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে গত বছরের ২২ নভেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়। জানা যায়, প্রকল্পগুলো স্পেক্ট্রা, সিআর-২৪ বি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর চলমান ব্রিজের পাশে নতুন সেতুর জন্য কয়েকটি স্প্যান বসানোর কাজ করা হচ্ছে। ব্রিজ এলাকায় লেবার শেড তৈরিসহ নানা সরঞ্জাম মজুত করে পুরোদমে চালানো হচ্ছে কাজ। একইভাবে দোহাজারী শঙ্খ ব্রিজের দক্ষিণ পার্শ্বে নতুন সেতুর একটি স্প্যান স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। দোহাজারী সেতুতে পাঁচটি স্প্যানের উপর দুই লাইন করে তিন ভাগে বিভক্ত করে গার্ডার বসানো হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, চারটি সেতুই গার্ডার সেতু হিসেবে নির্মাণ হবে। আগামী ২১ নভেম্বর ২০২১ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, সেতুগুলো নির্মাণস্থলের আশপাশ এলাকায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিও অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে চলছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনের তাগিদে ছয় লেনের সেতু তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সঙ্গে ফিজিভিলিটি স্টাডি ও সয়েল টেস্টের মাধ্যমে সেতুগুলো নির্মাণের জন্য সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জাইকা ও বাংলাদেশ সরকার যৌথ উদ্যোগে এ সেতুগুলো নির্মাণ করবে। আগামী ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে সেতুগুলো নির্মাণের কাজ শেষ হবে।
চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করীম সাঈদী বলেন, সেতুগুলো নির্মাণ শেষ হলে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যোগাযোগে আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রায় গতি আসবে। সহজতর হবে পর্যটন নগরী কক্সবাজার, বান্দরবানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ। এতে দৈনন্দিন জীবনে সচ্ছলতার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা যায়।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, এ চার সেতুর পাশাপাশি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। ২০১৭ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধনকালে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণের ঘোষণা দেন।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী টানেলের খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুনরায় শিকলবাহা ক্রসিং থেকে মহসড়কের কাজ শুরু করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এরই অংশ হিসেবে শিকলবাহা ক্রসিং থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১৫৯ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৭৬ কিলোমিটারসহ ২৩৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেনের হবে। এ লক্ষ্যে সড়কে দখলদারদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে অবৈধ স্থাপনা অপসারণও।
এডিবির অর্থায়নে সুইডিস কনসালটেন্ট নামে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজের জরিপ করে প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণের পর প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সড়ক চার লেন হলেও মহাসড়কে নির্মিতব্য চারটি সেতু ছয় লেনে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
