আফগানিস্তানে শান্তি কত দূর?

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১২

ভেস্তে গেল তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক

তৌহিদ আজিজ

 

তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা হঠাত্ করে মুখ থুবড়ে পড়ল। চুক্তির প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে যখন দুই পক্ষ পৌঁছাল ঠিক তখনই এই আলোচনা থমকে গেল। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সাম্প্রতিক সময়ে এক মার্কিন সৈন্য তালেবানের হামলায় নিহত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনা বাতিল করে দেন। এতে করে ক্যাম্প ডেভিডে প্রস্তাবিত বৈঠক বাতিল হওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। তবে আলোচনা বাতিল হলেও এরই মধ্যে তালেবান নতুন পথে হাঁটা শুরু করেছে। জঙ্গি গোষ্ঠীর একটি দল আলোচনার জন্য রাশিয়ার রাজধানী মস্কো গেছে। ট্রাম্প শান্তি আলোচনাকে ‘মৃত’ ঘোষণার একদিন পর তারা সেখানে যান।

তালেবানের আলোচক দলের একজন প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা মস্কোতে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে কাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এই বৈঠকটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তালেবানের পক্ষে এই বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন মুল্লাহ শের মোহাম্মদ স্টানিকজাই। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা তালেবানের হঠাত্ করে দিক পরিবর্তনকে ভিন্ন চোখে দেখছেন। কেননা এতে করে তারা যুক্তরাষ্ট্রের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়ার সঙ্গে সখ্য বাড়িয়ে হালে পরিস্থিতি ঘোলা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সে বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র যে একে বাঁকা চোখে দেখবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে কেউ কেউ বলছেন, তালেবানের হাতে অবশ্য অন্য কোনো বিকল্প খোলা ছিল না। তাই তারা বাধ্য হয়েই এই পথে এসেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, মস্কো তালেবানদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করছে। বলা যেতে পারে তাদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। মধ্য এশিয়ার এই সন্ত্রাসী গ্রুপ (ইসলামিক মুভমেন্ট অব আফগানিস্তান) যারা আইএসের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। এ নিয়ে মস্কোর সঙ্গে এ পর্যন্ত তাদের দুইবার বৈঠক হয়েছে। রুশ সরকারি বার্তা সংস্থা তাস তালেবানের মুখপাত্র সুহালি শাহিনের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, প্রতিনিধিদল প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আফগানিস্তান সংক্রান্ত দূত জামির কাবুলভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তালেবানের এক মুখপাত্রও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই কথা বলেছেন। নিউজ এজেন্সি ইন্টারফ্যাক্স রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, তারা তালেবানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নতুন করে আলোচনার তাগাদার কথা বলেছেন। তালেবানের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, তারা আলোচনা অব্যাহত রাখার জন্য প্রস্তুত আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের প্রথম বৈঠক।

ওয়াশিংটনভিত্তিক উইলসন সেন্টারের এশীয় অঞ্চলের উপপরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে যাবার পর তালেবান আবার তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা মনে করি এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা যে কোনো সংকট সমাধানে সংলাপের কোনো বিকল্প নেই। তাই সে বিবেচনায় এই আলোচনার ফলে বিষয়টি আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে। সম্প্রতি আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ও তালেবান নেতাদের সঙ্গে ক্যাম্প ডেভিডে প্রস্তাবিত বৈঠকটি বাতিল করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেইসঙ্গে তালেবানের সঙ্গেও আলোচনাকে বাতিল করে দেওয়া হয়। সেসময়ে ট্রাম্প এক টুইটে বলেন, ‘ক্যাম্প ডেভিডে তালেবান নেতাদের সঙ্গে আমার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে বৈঠক বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো লিখেন, তিনি তালেবানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি কাবুলে সাম্প্রতিক বোমা হামলায় এক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প এমন সময়ে এ ঘোষণা দিলেন যখন তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। আফগানিস্তান বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি জালমাই খালিলজাদ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনুমোদন দিলেই সেই চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যেত। তবে তালেবানের মুখপাত্র সুহালি শাহিন বলেন, আমরা এখনো আশা ছেড়ে দেইনি। আমরা পথ খুঁজছি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের আলোচনা শুরু করা যায়।

-নিউ ইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে