প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে ---আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০৬

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে সচেতন ও সক্রিয় থাকতে হবে। প্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় সম্পদের যথাযথ সদ্ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য কাম্য নয়।

গতকাল রবিবার বিকালে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক সমাবেশে তিনি আরো বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ের সব ধরনের কাজ সুসম্পন্ন করার জন্য যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়েছে। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানসহ উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পর্যায়ের চেয়ারম্যান ও মেম্বার এবং রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বশীল যে ব্যক্তিসমষ্টির উন্মেষ ঘটেছে, তা আশাব্যঞ্জক। তারা সমাজের এই স্তরে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলে আমাদের বিশ্বাস। তাদের সঙ্গে প্রশাসনের যখন কাজের সেতুবন্ধ গড়ে ওঠে, তখনই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সাধিত হয়, যা কাউখালী-ভাণ্ডারিয়া-ইন্দুরকানীতে এখন দৃশ্যমান। এই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সমাজের সব ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, ঐক্য ও দলমত-নির্বিশেষে কাজ সম্পাদনে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা তথা ধারাবাহিক আকাঙ্ক্ষা।’

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, ‘আমি ৩৪ বছর আগে কাউখালীতে প্রথম যখন আসি, তখন লক্ষ করেছি এখানকার সমাজে শিক্ষা-দীক্ষা, সংস্কৃতি, সভ্যতার ক্ষেত্রে একটি চমত্কার পরিবেশ বিরাজমান। আজকে কোথাও কোথাও এর ব্যত্যয় দেখা গেলেও অতীত ঐতিহ্যের সুনাম স্মরণে রেখে কাউখালীর গর্বিত মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখতে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে।’

রাজনীতির ক্ষেত্রে দলমতের ভিন্নতা যাতে কাজের কোনো বিঘ্ন না ঘটায়, সে ক্ষেত্রে সবার সতর্ক দৃষ্টি রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, মানুষ যাতে শান্তি-শৃঙ্খলার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করা সবার কর্তব্য। সরকারি কর্মকর্তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যাতে যথাযথভাবে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সক্ষম হন, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। অফিস-আদালতে বা থানায় অযথা ভিড় করে কোনোরূপ অযাচিত হস্তক্ষেপ বা অবৈধ প্রভাব সৃষ্টি করা কাম্য নয়। সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে মুক্ত রাখা আবশ্যক। আজকে কাউখালীতে তিনটি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও কাজ শুরু করা হয়েছে। এই নির্মাণের মধ্যে বহুতল ভবনের মতো বড়ো বড়ো অবকাঠামো রয়েছে, যা এলাকার জন্য সুদূরপ্রসারী কাজ। এর সুফল আগামী প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জেপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম নসু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন, কাউখালী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিল্টন, শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান সিকদার দেলোয়ার হোসেন, চিড়াপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ খান খোকন, আমড়াজুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সামসুদ্দোহা চাঁদ, সয়না-রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান এলিজা সাঈদ প্রমুখ।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি কাউখালী উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ, সরকারি কেজি ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের ছয়তলা ভিতবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ, এসবি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভিতবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম মাগুরা ১৫ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি উপলক্ষ্যে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। তিনি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সয়না-রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বেতকা বাজারের সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানমালিকদের মধ্যে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নগদ অর্থের চেক বিতরণ করেন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এরপর উপজেলার জনসাধারণের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ‘অগ্রাধিকারমূলক গ্রামীণ পানি সরবরাহ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে গভীর নলকূপপ্রাপ্তদের মধ্যে বরাদ্দপত্র বিতরণ করেন। এখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীন ‘যার জমি আছে ঘর নেই, তার জমিতে গৃহ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প থেকে কাউখালী উপজেলার গৃহপ্রাপ্তদের মধ্যে বরাদ্দপত্র বিতরণ করেন। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন ও মত্স্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে মা ইলিশ রক্ষার বিষয়ে এক সচেতনতামূলক সভা করেন। কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে কৃষি পুনর্বাসন প্রকল্পের অধীনে কৃষকদের মধ্যে পাওয়ার থ্রেসার বিতরণ করেন।

সন্ধ্যায় জেপি চেয়ারম্যান সম্প্রতি প্রয়াত কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এম নূরুল হকের বাসভবনে যান। সেখানে তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন এবং তাদের সমবেদনা জানান। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সদস্যসচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা প্রমুখ।