আরো ২২ বর্গকিলোমিটার অভয়াশ্রম করার প্রস্তাব

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০৮

বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতি ও গাঙ্গেয় ডলফিন রক্ষায় সুন্দরবনের নদ-নদীতে অভয়াশ্রম এলাকা বাড়ছে। এরই মধ্যে সুন্দরবনের তিনটি এলাকায় নতুন করে আরো ২২ বর্গকিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম ঘোষণার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবন ও এর আশপাশ এলাকায় সুরক্ষিত অবস্থায় উপকূলীয় প্রতিবেশের প্রহরী বলে খ্যাত ডলফিন স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করতে পারবে।

সুন্দরবন বন বিভাগ সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সুন্দরবন পৃথিবীর সর্ববৃহত্ ম্যানগ্রোভ বন। সুন্দরবনের নদ-নদীসহ বাংলাদেশে আট প্রজাতির ডলফিনের বিচরণ রয়েছে। এই আট প্রজাতির ডলফিনের মধ্যে রয়েছে, ইরাবতি, গাঙ্গেয়, ঘূর্ণি, ইন্দো-প্যাসিফিক হাম্পব্যাক, ইন্দো-প্যাসিফিক বোতলনাক, চিত্রা, রাফ টুথেড ও পাখনাবিহীন ডলফিন। গাঙ্গেয় ডলফিন বাংলাদেশের মিঠাপানির নদীর প্রধান ডলফিন। সুন্দরবনের নদ-নদীতে ইরাবতি ডলফিন ও গাঙ্গেয় ডলফিন সহজেই দেখতে পাওয়া যায়। সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এসে  ইরাবতি ও গাঙ্গেয় ডলফিনের ড্রিবলিং দেখে মুগ্ধ হন। কিন্তু এই দুই প্রজাতির ডলফিনই বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

ইরাবতি ডলফিন ও গাঙ্গেয় ডলফিনের বিচরণ এলাকা মূলত সুন্দরবনের চাঁদপাই, দুধমুখী ও ঢাংমারি এলাকার বিভিন্ন নদ-নদী। এরই মধ্যে বাংলাদেশে ডলফিন ও তিমি শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০১২ সালের প্রণীত আইন অনুযায়ী ডলফিন অথবা তিমি শিকার করা হলে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানাসহ উভয় দণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হচ্ছে।

জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ডলফিনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। জলজ খাদ্য-শৃঙ্খলের মধ্যে ডলফিন সবার শীর্ষে। ডলফিন পানিতে অবস্থিত মাছ ও  অক্টোপাস জাতীয় প্রাণী খেয়ে তাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলজ প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। ডলফিনকে উপকূলীয় প্রতিবেশের প্রহরী বলা হয়। সাধারণত ডলফিনের শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখলে ধরে নেওয়া যায় যে, পানিতে দূষণ কিংবা অন্য কোনো প্রতিকূল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। উপরন্তু বোতলনাক ডলফিন পানিতে দ্রবীভূত ক্ষতিকারক দূষক পদার্থ তার নিজ শরীরে শুষে নিয়ে পানিকে দূষণমুক্ত করে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে সুন্দরবনে ১০.০৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ডলফিনের জন্য তিনটি অভয়াশ্রম এলাকা রয়েছে। এই তিনটি অভয়ারণ্য হচ্ছে: ঢাংমারি বন্যপ্রাণি অভয়ারণ্য, চাঁদপাই বন্যপ্রাণি অভয়ারণ্য ও দুধমুখী বন্যপ্রাণি অভয়ারণ্য। ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসালিটির (জিইএফ) সহযোগিতায় সুন্দরবন বন বিভাগ তিন বছর মেয়াদি সুন্দরবনের ইরাবতি ও গাঙ্গেয় ডলফিনসহ বিপন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী রক্ষা ও তাদের বিচরণ এলাকা সম্প্রসারণে কার্যক্রম শুরু করে। এ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়: ‘গুরুত্বপূর্ণ জলজ প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনার জন্য রক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ প্রকল্প।’ এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৩ কোটি টাকা। যার কাজ শেষ হচ্ছে আগামী ডিসেম্বরে।

ঢাংমারি গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ছোটোবেলা থেকেই মাছ শিকার ছিল তার পেশা। কিন্তু ২০১২ সালে ঢাংমারি নদীকে ডলফিনের অভয়াশ্রম ঘোষণা করার পর তিনি জানতে পারেন, তারা যেভাবে নদীতে মাছ শিকার করেন তাতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ ডলফিনের ক্ষতি হয়। তাই তিনি এ পেশা ছেড়ে এখন ছোট্ট একটি ট্যুরিস্ট নৌকা তৈরি করেছেন। ডলফিন প্রকল্প ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিকভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জলজ বৈচিত্র্যের টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।