রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন

ভোট পেছানোর দাবিতে অনশন, দুর্গাপূজা বর্জনের ঘোষণা

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১০

ভোটগ্রহণ পেছানোর দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রংপুর মহানগরের নেতারা। গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে ভোটগ্রহণ পেছানোর দাবি জানান তারা। এসময় নেতারা বলেন, যদি ভোটগ্রহণের তারিখ পরিবর্তন করা না হয় আমরা রংপুর জেলা ও মহানগরের ৯৬২ মণ্ডপে দুর্গা পূজা বর্জন করব। অনশনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের রংপুর নগরের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, রংপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রশীদ বাবু প্রমুখ। শারদীয় দুর্গোত্সব চলাকালে রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভোট প্রদানে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমনই আশঙ্কা করছেন পরিষদের নেতারা।

এদিকে রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হলফনামা থেকে জানা গেছে, রংপুর-৩ শূন্য আসনে উপনির্বাচনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির রিটা রহমান ও খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল। তারা দুজনই স্নাতকোত্তর পাশ। এরশাদপুত্র রাহগির আল মাহি সাদ স্নাতক পাশ হলেও ধনসম্পদে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ এইচএসসি পাশ। এছাড়া গণফ্রন্টের কাজী মো. শহীদুল্লাহ ও এনপিপির শফিউল আলম স্বশিক্ষিত।

হলফনামা অনুযায়ী, সাদ এরশাদের আয়ের নিজস্ব কোনো উত্স নেই। তবে তার ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ৫৮ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৬ টাকা। এছাড়া অস্থাবর সম্পত্তি নগদ ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৪৩৯ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ২ কোটি ৬৫ লাখ ১২ হাজার ২৯১ টাকা রয়েছে। তার শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকার। মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৯৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সাদের নিজের নামে স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৭৮ কোটি ৮৮ লাখ ৫ হাজার টাকার। এছাড়া রয়েছে ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের বাড়ি অ্যাপার্টমেন্ট। স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও বিভিন্ন খাতের আয়সহ সাদ এরশাদ বর্তমানে ১৮ কোটি ১১ লাখ টাকার মালিক। এ সম্পদ থাকার পরও সাদ এরশাদ হলফনামায় ৭ লাখ টাকা দেনার কথা উল্লেখ করেছেন।

বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান পেশায় সাংবাদিক ও লেখক। কৃষিখাত ও পেশাগতভাবে তার আয় ৪ লাখ টাকা। এরশাদের ভাতিজা শাহরিয়ার আসিফের অস্থাবর সম্পদে নগদ ৩৪ লাখ টাকা রয়েছে। ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ৩১ লাখ টাকা। তার বাস, ট্রাক ও জিপ গাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৩ লাখ টাকা। এছাড়া আয়ের উেস বাড়ি ও দোকান ভাড়া পান ৩৮ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ব্যাংকে সুদ ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৯৮ টাকা দেখানো হয়েছে। তিনি সাধারণ ব্যবসায়ী ও প্রথম শ্রেণির একজন ঠিকাদার।