আশরাফুলকে হত্যা করে চার বন্ধু ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০৯

মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্র আশরাফুলের অন্তর্ধান রহস্য দেড় মাস পর উদঘাটিত হল। গত ৬ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার দিনই তাকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দিয়ে আশরাফুলের মোটরসাইকেল নিয়ে লাপাত্তা হয় তার চার বন্ধু। শনিবার  রাতে মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে দুই আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

আশরাফুল সদর উপজেলার কাফাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) হানিফ সরকার জানান, গত ৬ আগস্ট বিকালে স্কুলছাত্র আশরাফুল ইসলাম মোটরসাইকেল নিয়ে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনার পর দিন আশরাফুলের দাদা নাজিম উদ্দিন মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে জিডিটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিখোঁজ স্কুলছাত্রের সহপাঠীদের জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াও আশরাফুলের সন্ধানে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করেন। ২৫ আগস্ট আশরাফুলের ব্যবহূত মোবাইল ফোনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় জেলার সিংগাইর আজিমপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। ঐ মোবাইলের সূত্র ধরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভোরে সদর উপজেলার কাফাটিয়া গ্রামে মনোয়ার হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন (২৪) ও সিংগাইর উপজেলার উত্তর জামশা গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে আরিফ হোসেনকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়।

গত শুক্রবার তাদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক নিখোঁজ আশরাফুলের মরদেহ উদ্ধারের জন্য সিংগাইর উপজেলার উত্তর জামশা এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে ডুবুরি দিয়ে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি। গ্রেফতারকৃতরা পুলিশ ও আদালতকে জানিয়েছে, ঘটনার দিন (৬ আগস্ট) স্কুলছাত্র আশরাফুল তার সুজুকি মোটরসাইকেল নিয়ে আসামি ইব্রাহিম হোসেনসহ সিংগাইর উপজেলার উত্তর জামশায় যায়। সেখানে আশরাফুলসহ অন্য আসামিরা উত্তর জামশা গ্রামে আলমের বাড়িতে মাদক সেবন করে। একটু রাত হতেই চার বন্ধু আশরাফুলকে স্থানীয় বাঁশঝাড়ে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে মরদেহ পাশের কালিগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়। ঐ রাতেই আশরাফুলের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আসামিরা তার প্রবাসী পিতা মোহাম্মদ আলীর কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ও বিভিন্ন বিকাশের নম্বর দেয় টাকা পাঠানোর জন্য। ঘটনার কয়েকদিন পর আশরাফুলের মোটরসাইকেলটি রাজবাড়ি জেলার সাজ্জাদ হোসেনের কাছে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে ঐ টাকা আসামিরা ভাগ করে নেয়। আশরাফুলের মোটরসাইকেলটি শুক্রবার সিলেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে চার আসামির মধ্যে এক জন সম্প্রতি বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। অপরজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে এই দুই আসামির নাম-ঠিকানা প্রকাশ করতে রাজি হয়নি পুলিশ।

শনিবার বিকাল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে দুই আসামি আশরাফুলকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন সদর থানার ওসি (তদন্ত) হানিফ সরকার। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত  গতকাল সন্ধ্যায়ও আশরাফুলের লাশ উদ্ধার করা যায়নি।