নওগাঁয় বিএনপির প্রতিপক্ষের হামলায় ইউপি সদস্য নিহত

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৩১

নওগাঁর নিয়ামতপুরে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ইউপি সদস্য ওয়াহেদ আলী নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ৮টার দিকে রাজশাহীর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় আরেক ইউপি সদস্য জাকির হোসেনসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের খড়িবাড়ি বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত ওয়াহেদ আলী বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ও ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য এবং করিমপুর গ্রামের তাছির আলীর ছেলে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-পোরশা ও সাপাহার উপজেলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সালেক চৌধুরী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের দুটি গ্রুপ ছিল। রবিবার বিকাল ৫টার দিকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের খড়িবাড়ি বাজার সেডে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা চলছিল। 

আলোচনা সভায় ডা. সালেক চৌধুরীর কর্মী সমর্থকরা হেলমেট পরে লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মোস্তাফিজুর রহমানের সমর্থক ইউপি সদস্য ওয়াহেদ আলীর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নেয়। অবস্থা খারাপ হওয়ায় সেখান থেকে ওয়াহেদ আলীকে রাজশাহীর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা যান। 

বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আরেক মেম্বার বিএনপি সমর্থক ওয়াজেদ আলী বলেন, আমরা আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলাম। এ সময় ডা. সালেক চৌধুরীর কর্মী সমর্থকরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। 

এ বিষয়ে ডা. সালেক চৌধুরী বলেন, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে বিভাগীয় আলোচনা হওয়ার কথা। এর আগে জেলায় কোথাও কোনো ধরনের আলোচনা সভা হওয়ার কথা না। কিন্তু তারপরও খড়িবাড়িতে আলোচনা সভা হয়েছে। যা আমার জানা ছিল না। ওই সময় আমি চেম্বারে বসে রোগী দেখছিলাম। পরে শুনলাম মোস্তাফিজুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থেকে শতাধিক গুণ্ডা ভাড়া করে নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে। আমারও দুইজন কর্মীর অবস্থা খারাপ, তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তবে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নিয়ামতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামছুল আলম বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ