ফেসবুকের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর বৈঠক

দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মেনে চলবে ফেসবুক

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৪৭

 

ফেসবুক বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বাংলাদেশের প্রচলিত আইন মেনে চলা এবং  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাহিদা অনুুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য  প্রদানে পূর্ণ সম্মতি প্রদান করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশে   প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয়  প্রতিনিধি নিয়োগ, রিসেলার নিয়োগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে কর প্রদানে প্রতিনিধি নিয়োগ এবং বাংলা ভাষার সঠিক অনুবাদ ও প্রয়োগের সবধরনের সহযোগিতা  প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে। ফেসবুকে বাংলাভাষা প্রয়োগে মন্ত্রীসহ বিশেষজ্ঞগণের সহযোগিতা কামনা করেছে। মন্ত্রী এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরিসহ প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গতকাল ঢাকায় বিটিআরসি মিলনায়তনে  ফেসবুকের উচ্চপর্যায়ের আট সদস্যের প্রতিনিধিদলের সাথে সমন্বয়  বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এর আগে ২০১৮ সালে এবং এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্পেনের বার্সেলোনায় ওয়ার্ল্ড মোবাইল কংগ্রেসের সাইড লাইনে ফেসবুকের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের আজকের ফলপ্রসূ এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 বৈঠকে মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশে নৈরাজ্য পর্নোগ্রাফি, সন্ত্রাস, গুজব রটানো,পরীক্ষার  প্রশ্নপত্র ফাঁস, অপপ্রচার ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ, বিদ্যমান বিভিন্ন বিষয়ে ফেসবুককে বাংলাদেশের নিয়মনীতি মেনে নিরাপদ ফেসবুক ব্যবহারের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।  মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ, আমাদের সমাজ এবং আমাদের নাগরিকদের ফেসবুকের নিরাপদ ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে। মন্ত্রী বাংলাদেশের আইন, আবহমান বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং নিয়মনীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে আইন আছে, সেই আইন মোতাবেক ফেসবুককে কনটেন্ট এবং অন্যান্য বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।ফেসবুক বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখার বিষয়ে মন্ত্রীকে আশ্বাস প্রদান করে।

প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে নানা বিষয়ে আলোচনার মধ্যে নাগরিক সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় প্রত্যয়ের বিষয়টি প্রধান্য পায়।

কনটেন্ট বিষয়ে বিদ্যমান যে কোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য বাংলাদেশে অফিস খোলার বিষয়ে মন্ত্রী গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘রেসপন্স টাইমের বিষয়ে ফেসবুক যে দীর্ঘসূত্রতা করে, সেটিকে ইমিডিয়েট রেসপন্স টাইমে আনতে হবে।’

কম্পিউটারে বাংলা ভাষার উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার ফেসবুককে সঠিকভাবে বাংলা ভাষায় অনুবাদ এবং প্রয়োগ করতে বলেন। আর ফেসবুক যদি এই সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা চায়, সে লক্ষ্যে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। মন্ত্রী বাংলা ভাষার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার প্রস্তুত উল্লেখ করে বলেন, ফেসবুকে বাংলা ভাষা ব্যবহারে কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে হবে।

সফররত ফেসবুক   প্রতিনিধিদল বাংলা ভাষাভাষী মানুষ যেন ফেসবুকে বাংলা পড়তে কোনো অসুবিধার মধ্যে না পড়েন, মন্ত্রীর প্রস্তাবে অনুবাদসহ বাংলা ভাষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানান ।

বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, বিটিসিএল মহাপরিচালক ইকবাল মাহমুদ, টেলিকম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: মহসিনুল আলম, আইসিটি বিভাগের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক পরিচালক তারেক এম বরকত উল্লাহ এবং সাইবার থ্রেট ডিটেকশন প্রকল্পের পরিচালক মো. রফিকুল মতিনসহ ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাব, এনবিআর, এনটিএমসি এবং এসবিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার  প্রতিনিধিগণ ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে  তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

 বৈঠকে ফেসবুকের আট সদস্যের   প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ফুসবুকের হেড অব সেফটি বিক্রম সেনগ। প্রতিনিধিদলের অপর সদস্যগণ হচ্ছেন—ফেসবুক পাবলিক পলিসিবিষয়ক পরিচালক অশ্বনি রানা, শিবনাথ থাকরাল, পাবলিক পলিসি ম্যানেজার বরুণ রেড্ডি, সুমন্ত বিশ্বাস,  প্রডাক্ট লেভেল ট্রান্সলেটর টবি ফারনাল, পাবলিক পলিসি ম্যানেজার  রিসাব দারা, স্টেটেজি ম্যানেজার ম্যাট স্যানসেন এবং ফেসবুক মোবাইল পার্টনার বিভাগের ইরম ইকবাল।