স্পোর্টস রিপোর্টার
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা শুরু করেছে আফগানিস্তান। এর আগে বছর দুই-তিনের প্রস্তুতিপর্ব ছিল। এই সামান্য সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যথেষ্ট ছাপ রাখতে পেরেছে তারা। প্রতিষ্ঠিত টেস্ট খেলুড়ে দল বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়েকে নিয়মিত হারাচ্ছে এই দলটি। অথচ সেই আফগানিস্তানের দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা বা জাতীয় দলের প্রস্তুতি সারার মতো পরিবেশটা পর্যন্ত নেই।
কখনো ভারতে, কখনো আরব আমিরাতে প্রবাস জীবন যাপন করা আফগানিস্তানের এই উন্নতি দেখলে যে কারো চোখ বড়ো হয়ে যাওয়ার কথা। আফগানিস্তানের অধিনায়ক ও দেশটির ক্রিকেটের সবচেয়ে বড়ো বিজ্ঞাপন রশিদ খান বলছিলেন, তাদের ক্রিকেটের এই উন্নতির প্রধান কারণ, খেলোয়াড়রা খেলাটিতে ভালোবাসেন।
দেশটিতে প্রকৃতি প্রদত্ত অনেক প্রতিভা আছে, উল্লেখ করে রশিদ বলছিলেন, ‘এটা শুধু এই কারণে যে তারা খেলাটা ভালোবাসে। প্রকৃতি প্রদত্ত মেধা আছে এখানে যা আমার মনে হয় অধিকাংশ দেশেরই নেই। আমাদের যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা নেই, আমাদের মাঠও নেই সেখানে (আফগানিস্তানে)। কিন্তু প্রকৃতি প্রদত্ত মেধাগুলো বেরিয়ে আসছে। ব্যাটিংয়ের দিক থেকে, বোলিংয়ের দিক থেকে কিংবা ফিল্ডিংয়ে তারা (বর্তমান দল) স্বভাবজাত খেলাটাই খেলছে। তাই এ মুহূর্তে আমাদের কিছু একাডেমি হয়েছে। তরুণ খেলোয়াড়রা অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে এখন। আসল কারণটাই হচ্ছে ছেলেদের স্বভাবজাত খেলা এবং ভালো করার আকাঙ্ক্ষা।’
এই আফগানিস্তান দল এবার বাংলাদেশ সফরে এসে প্রতিষ্ঠিত এই স্বাগতিকদের টেস্টেও হারিয়ে গেছে। এই সফরের মূল্যায়ন করতে গিয়ে রশিদ অনেক প্রাপ্তির কথা বললেন, ‘আমাদের অনেকগুলো ইতিবাচক দিক আছে। আমরা অনেক ইতিবাচক বিষয় এখান থেকে নিয়ে যাব। বিশেষত, অভিষেক হওয়া ছেলেটি, ইব্রাহিম খুবই ভালো খেলেছে। রহমত শাহ আফগানিস্তানের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকানোয় আমরা বেশ সন্তুষ্ট। আসগর আফগানেরও এই টেস্টে দারুণ অবদান ছিল। অনেকগুলো ইতিবাচক বিষয় আমরা নিতে পারি—কাইস আহমেদের ভালো একটি অভিষেক হলো, জহির খানেরও অভিষেক হয়েছে। বাঁ-হাতি পেসার ফরিদ মালিকও দারুণ করেছে। সর্বশেষ ম্যাচটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা নবীন উল হক ভালো করেছে। সে শুধু ভালো বোলারই নয়, ভালো ফিল্ডারও।’
টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তান আগে থেকেই শক্তিশালী দল। এবার টেস্টেও ভালো করার পর তুলনাটাও এলো। রশিদ বলছিলেন, তাদের আলাদা আলাদা খেলোয়াড়দের আলাদা বৈশিষ্ট্য সব ফরম্যাটে ভালো করতে সহায়তা করছে, ‘আমার মনে হয় টেস্টের চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে আমাদের পুরোপুরিই ভিন্ন রকমের দল। নবী আর আসগর উভয়ে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি খেলে। আমার মনে হয় তারা অনেক ক্রিকেট খেলেছে, তাই জানে টি-টোয়েন্টি থেকে কীভাবে টেস্টে প্রত্যাবর্তন করতে হয়। একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে, পরিস্থিতির সঙ্গে আপনাকে অবশ্যই মানিয়ে নিতে হবে। আমাদের টি-টোয়েন্টিতে ভিন্ন কিছু ছেলে আছে। দেশে তারা খুব ভালো একটা ক্যাম্প করেছে। টেস্টের জন্য আমাদের দুবাইয়ে খুব ভালো ক্যাম্প হয়েছিল। অধিনায়ক হিসেবে এটা আমার জন্য খুবই স্বস্তিদায়ক। ভিন্ন ফরমেটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দল পাওয়া খুবই ভালো ব্যাপার। অধিনায়ক হিসেবে তাদের পেয়ে আমি বেশ খুশি।’
